প্যাগান বিলিফের প্রত্যাবর্তন

 

প্যাগান বিলিফের প্রত্যাবর্তন

May 15, 2019

ব্যাপারটি শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্য কথা হচ্ছে আজকের মেটাফিজিক্স আর কসমোলজি প্যাগান বিলিফেরই বিস্তৃত রূপ। তবে প্যাগান রিলিজিওনগুলোর সাথে বর্তমান মেটাফিজিক্সের মাঝে মোটা দাগে একটি পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। পার্থক্যটি হলো আজকে ম্যাথমেটিকসের ব্যবহার প্রকট, কিন্তু প্রাচীন আমলে এর প্রভাব তেমনটা লক্ষ্য করা যায় না, যদিও একেবারে ছিল না তা বললে ভুল হবে, পিথাগোরাস গায়েবকে জানার জন্য ম্যাথমেটিক্স আরোপ করতো। কিন্তু আক্বিদার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই।

আমরা আমাদের গত আর্টিকেলগুলোতে অনেক রেফারেন্স উল্লেখ করেছিলাম কিভাবে ভারত দ্বিতীয় গ্রিস হয়ে ওঠে আর্যদের কারণে(‘মিস্টিক্সদের বুদ্ধপ্রীতি’ আর্টিকেলটিতে)। এটাও উল্লেখ করেছিলাম যে হিন্দু শুধু আলাদা ধর্ম নয়, পুরো একটা ফিলোসফি। প্রাচীন হিন্দুগণ বছরের পর বছর সাধনা করতো থার্ড আই পাওয়ার জন্য। একবার চক্র সম্পাদন হয়ে গেলে তারা মেডিটেশন করে যা দেখতো তাই বেদে লিখে রাখতো। বুদ্ধও একই দলের। তাদের মেডিটেশনের অর্থ শয়তানের সাথে বন্ধুত্ব করা। অর্থাৎ বেদ পুরোটাই শয়তানের হাতে রচিত, পরোক্ষভাবে বলেন আর প্রত্যক্ষভাবে।

পৃথিবীতে মিস্টিসিজম বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্নভাবে বিস্তার লাভ করেছে। বাবিল শহরের কাব্বালা বলেন, আর মিশরের হার্মেটিসিজম, কিংবা পুর্বদিকের হিন্দুজম, বুদ্ধজম। অর্থাৎ একই জিনিস, বিভিন্ন অঞ্চলে শাখাগত কিছু পার্থক্যসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।

তাহলে কাব্বালাকে যদি সাইন্স বলা যায়, হার্মেটিসিজমের প্রিন্সিপলগুলোকে মেইনস্ট্রিম ফিজিক্সে আনা যায়, তাহলে ইস্টার্ন মিস্টিসিজম কেন বাদ থাকবে? আসলেই বাদ নেই।

ভলতেয়ার বলেছে, “The Veda was the most precious gift for which the West had ever been indebted to the East.” (wiki)

আজকে এ দেশের ফিজিক্স বইতে লেখা হয় শক্তি সব একই, শুধু বিভিন্ন রূপে আছে। শক্তিকে ধ্বংসও করা যায় না, সৃষ্টিও করা যায় না। সম্প্রতি স্ট্রিং থিওরীর উত্থান ঘটেছে। মেটারিয়েলিজমের পতনের মাধ্যমে কোয়ান্টাম থেইজমের উত্থান ঘটেছে। হলোগ্রাফিক ইউনিভার্সকে সাইন্স ফিকশন থেকে এনে সাইন্টিফিক ডিসিপশনে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ঠিক হাজার বছর আগের মুশরিকদের মতো। এসবের শুরুতে যে ছিল, যাদুকর পিথাগোরাস, ম্যাজাইদের থেকে ধার করে আনা দর্শন প্রচারক, সেও ভারতের মুশরিকদের মতো নিরামোষভোজী ছিল। রিইনকারনেশনেও বিশ্বাসী ছিল।

ইস্টার্ন মিস্টিসিজমের আকিদা অনুযায়ী সৃষ্টি ও স্রষ্টা একই, অর্থাৎ, ওয়াহদাতুল উজুদ, মনিজমের আকিদা। হার্মেটিসিজমের প্রিন্সিপল মেন্টালিজম। আজকের মেটাফিজিক্স মুলত এক প্রকার প্রকৃতিপুজা, ডিফারেন্স হলো তারা সরাসরি পুজা না করলেও একই আকিদা রাখে। হিন্দুরা বিশ্বাস করে প্রকৃতির বিভিন্ন দেবতা আছে, মুলত তারা সব একই দেবতার বিভিন্ন রূপ। তারা সবাই একই। ফিজিক্স বইয়ের সাথে মিল পাচ্ছেন? ওরা দেবতার পুজা করে, আর কোয়ান্টাম থেইজমেও মেডিটেশনের মাধ্যমে জাইজান্টিক মাইন্ডের অংশ হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। মিস্টিক্সদের কাছে ন্যাচারই গড।

কোয়ান্টাম ফিজিক্স পুরোটাই বৈদিক ফিলোসফি। তারা আপনাকে বলবে আপনি যা দেখেন তা সবই ইলিউশান, আপনি যা দেখেন তার অস্তিত্ব নেই। আপনি নিজেই একজন স্রষ্টা, আপনি একজন অবজার্ভার, আপনি ঠিক করবেন আপনি কী দেখতে চাচ্ছেন। আস্তাগফিরুল্লাহ! এটি তো সরাসরি আল্লাহকেই অস্বীকার করে প্যান্থেজমের দিকে প্রত্যাবর্তন! 

মালাউন কার্ল সেগান তো বলেই ফেললো,

 “The Hindu religion is the only one of the world's great faiths dedicated to the idea that the Cosmos itself undergoes an immense, indeed an infinite, number of deaths and rebirths. It is the only religion in which time scales correspond to those of modern scientific cosmology. Its cycles run from our ordinary day and night to a day and night of Brahma, 8.64 billion years long, longer than the age of the Earth or the Sun and about half the time since the Big Bang."

নোবেলজয়ী ফিজিসিস্ট ব্রায়ান ডেভিড জোসেফসনের মুখ থেকে শুনুন,

 "The Vedanta & the Sankhya hold the key to the laws of mind and thought process which are co-related to the Quantum Field, I.e. the operation & distribution of particles at atomic & molecular levels."

ভূ-তত্ত্ববিদ আর্থার হোমস, হিন্দু জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে বলেছে,

 "As in modern physics, Hindu cosmology envisaged the Universe as having a cyclical nature. The end of each Kalpa brought about by Shiva's dance is also the beginning of the next. Rebirth follows destruction."

ওয়ার্নার হেইজেনবার্গ - "After the Conversations about Indian philosophy, some of the ideas of Quantum physics that had seemed so crazy suddenly made much more sense."

শ্রোডিঙ্গার কী বলে দেখুন, "Vedanta teaches that consciousness is singular, all happenings are played out in one universal consciousness & there is no multiplicity of selves."

নীলস বোর হিন্দুজমের কাছে খুব ঋণী। দেখুন তার বক্তব্য, "I go into Upanishads to ask questions."

শ্রোডিঙ্গার প্যান্থেজমের কনশাসনেসের ব্যাপারে বেদের পক্ষে সাফাই গেয়েছে, "Vedanta teaches that consciousness is singular, all happenings are played out in one universal consciousness & there is no multiplicity of selves."

আসলে অকাল্ট এটমিজমকে মেইনস্ট্রিম সাইন্সে আনাই হয়েছে প্যান্থেজম প্রতিষ্ঠার জন্য।

হেগেলিয়ান ট্র‍্যাপে পড়ে কিছু সময় নাস্তিকতা নামক মুর্খতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও ফিজিক্সের পরিবর্তনে নাস্তিকতা চাপা পড়ে গিয়েছে। এখন ফিজিক্স স্পিরিচুয়াল, যেমনটা স্পিরিচুয়াল ছিল প্রাচীন যাদুকররা। এখনকার অনেককেই দেখবেন নিজেদেরকে স্টারডাস্ট হিসেবে পরিচয় দিতে। প্রাচীন হার্মেটিসিজমের কিতাবেও একই কথা লেখা, আমরা স্টারডাস্ট। এমনকি টাইসনের কসমস সিরিজের একটি পর্বেও এ ব্যাপারে তার বক্তব্য আছে।

আচ্ছা আপনাদেরকে কিছু প্রশ্ন করি।

মানবজাতির বয়স কতো?

কেনই বা এতো বছর পরে এসে হঠাৎ করে শেষ জামানায় মানুষ 'সাইন্সটিফিক নলেজ' পাওয়া শুরু করলো?

কেনই বা মিস্টিক্সদের ন্যাচারাল ফিলোসফি সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়লো?

কেনই বা ফিজিসিস্টরা হাজার বছর আগের ধর্মে ফিরে গেলো?

আর এসব কেনই ঘটলো এই শেষ সময় এসে? ব্যাপারটা কি আপনার মনে প্রশ্নের উদ্রেক করে না?

হাদিসে কেন বলা হয়েছে কিয়ামতের নিকটতম সময়ে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় বিপর্যয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটবে???????

আপলোডকৃত পিকটিতে মনিজম/প্যাগান স্পিরিচুয়ালিটি তুলে ধরা হয়েছে। আপাতত এর ব্যখ্যা দেওয়া নিষ্প্রয়োজন]

.

ব্যাবিলনিয়ান সুডোসাইন্স

 

Comments

Popular posts from this blog

AGI, Technological Singularity, Transhumanism

তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে.........