তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে.........
May 27, 2019
কুফফাররা লড়াই করে ত্বগুতের জন্য, নিও ওয়ার্ল্ড অর্ডারের জন্য। আর মুমিনরা লড়াই করা আল্লাহর রাহে। কুফফাররা চায় nwo, আর মুমিনরা চায় খিলাফাহ আলা মিনহাজিন নুবুওয়াহ।
nwo এর একেবারে বেসিক পিলারগুলোর একটি হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড একটা ইন্টারফেইথ-অসাম্প্রদায়িকতা, পারস্পারিক ধর্মীয় সহানুভূতি প্রতিষ্ঠা করা। প্রাচীন প্যাগান মিস্টিক্সদের মতো বলা হচ্ছে 'যতো মত, ততো পথ' টাইপের কুফরী বাক্য। আসলে সব ধর্মকে মিশ্রিত করাটা দাজ্জালের জন্য প্রয়োজন। কোয়ান্টাম মেথড বা নিউএজ মুভমেন্টের মতো অকাল্ট বিলিফ প্রমোটকারী অর্গানাইজেশনসমূহকে এরকম কুফরীকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত। এমনকি সেক্যুলারিজমও এই ইন্টারফেইথ প্রজেক্টের একটি অংশ। প্রথমেই ইন্টারফেইথকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলে কোনো ধর্মের লোকদের থেকেই সাড়া না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল। এ কারণে প্রথমে ইন্টারফেইথের হালকা ফ্লেভার সেক্যুলারজিমকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেক্যুলারজমের সাথে ইন্টারফেইথের পার্থক্য হলো সেক্যুলারিজম কিছুটা হলেও পারসোনালি দ্বীন পালনের সুযোগ দেয়, যদিও রাষ্ট্রীয় পর্যায় দেয় না। কিন্তু ইন্টারফেইথ রাষ্ট্রীয়ভাবে না দিলেও পারসোনালি আকিদাকে দুষিত করবেই, করাটাই টার্গেট। জুডিও-ব্যাবিলনিয়ান অ্যাডভান্স ফিজিক্সকে ডিকোড করে 'সাইন্সে’ রূপান্তরই শুধু তাদের প্রচেষ্টা নয়, তারা পলিটিক্যাল ব্যাপারগুলোতেও শয়তানি প্রবেশ করাচ্ছে। তারই উদাহরণ হলো ডেমোক্রেসি, কমিউনিজম, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশপ্রেম, 'ধর্ম যার যার, উৎসব সবার' টাইপের চেতনা। এসবের মূলে আছে ইন্টারফেইথ। আর এর জন্য কুফফাররা একটা বিষয়ে খুব স্ট্রংলি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। বিশেষ করে মনস্তাত্বিক যুদ্ধের ব্যাপারে অজ্ঞ তাদের অন্তরে। সেটা হলো শারী'আহকামীকে টেরোরিস্ট ট্যাগানো এবং ম্যাস মাইন্ডের মাঝে সেটাকে ইনপুট করতে পারা। সামান্য রাষ্ট্রদেবীর জন্য, ভূমির জন্য, কিংবা সামান্য কাটাতারের বেড়ার জন্য এমনকি ভাষার জন্য জীবন নষ্টকারীরা তাদের কাছে স্বাধীনতাকামী, কিংবা বিদ্রোহী। বড়জোর বিচ্ছিন্নতাবাদী। কিন্তু মুজাহিদদের বিরোধীতার ব্যাপারে দা-কুমড়োর সম্পর্কের কাফের রাষ্ট্রগুলোও যেন গলাগলি করা ভাইভাই। আল কুফরু মিল্লাতুন ওয়াহিদাহ।
তাদের ডেমোক্রেটিক অথবা সেক্যুলাঙ্গারিজম ডমিনেশনে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড তাদের ইচ্ছানুযায়ী এক নব্য অর্থ লাভ করে। তারাই ঠিক করে দেয় কোনো মানুষ তাদের সিস্টেমের বিরুদ্ধাচরণ করলে ঠিক কতোটুকু করবে, কোনো মানুষ যদি তাদের প্রণীত লাইফ কোড না মান্য করে অন্য লাইফ কোড মান্য করে তবে সেটাও বা ঠিক কতোটুকু করবে- এরকম অনেক ক্ষেত্রে তারা এক অদৃশ্য সীমানা বেধে দিয়েছে। সেটা সব ক্ষেত্রেই। ইকোনমি থেকে শুরু করে কালচার, কিংবা রাজনৈতিক মতবাদ। সবকিছুতেই তাদের অদৃশ্য সীমানা বিদ্যমান। এই সীমানা হলো তাদের সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে বানানো। এই সীমানা যে ক্রস করে তাদের সিস্টেমের বাইরে চলে গেলেই তাদের অনুসৃত নব্য নেগেটিভ ওয়ার্ডসমূহ আপনার ওপর আরোপিত হবে। সেটার সর্বোচ্চ স্তর হলো ইসলামিক টেরোরিস্ট। এই মুজাহিদরা, কিংবা মুজাহিদদের সমর্থনকারী মানবগোষ্ঠী, তারা তাদের চোখে বিষফোঁড়া। তাদের দাজ্জালি সিস্টেমের জন্য ভ্যাক্সিন। কারণ ৭০০কোটি জনসংখ্যার এই মানব সমাজে একমাত্র তারাই লেজেন্ডারি মানবগোষ্ঠী যারা তাদের গোটা সিস্টেমের জন্য এন্টিভাইরাস। কারণ তারা তাদের অনুসৃত সিস্টেমের কোনো কিছুই মান্য করে না, সেটা হোক রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, কালচার কিংবা শাসনব্যবস্থা। মান্য করা তো দূরের কথা, তারা সেটাকে মাননীয় হওয়ার যোগ্যও মনে করে না। বরং তারা এমন এক দ্বীনকে বুকে ধারণ করে, মস্তিষ্কে ধারণ করে, হৃৎপিণ্ডে ধারণ করে, ধারণ করে প্রতিটি রক্তকণায়, তা হলো মানবজাতির রবের প্রবর্তিত দ্বীন। এই দ্বীন গোটা মানবরচিত ওয়ার্ল্ড অর্ডারকেই চ্যালেঞ্জ করে, তাদেরকে অপমানিত করে, লাঞ্ছিত করে, এবং তাদেরকে দুনিয়া থেকে নিঃশেষ করে। যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।
চতুর্দিক দিক দিয়ে তাদের সিস্টেমের বিরোধীতা ও বিদ্রোহ করা, তাদের সিস্টেমকে হাস্যকর অযোগ্য ও নগন্য মনে করা, এবং শারী'আহ কায়েমের চেষ্টা করা, তাদের উপাস্য আইনপ্রণেতা ও উপাসকদের থেকে বারা’আর ঘোষণা- ইত্যাদি কারণে গুরাবা কমিউনিটির প্রতি তাদের যে ক্ষোভ তা সব যুগের কাফেরদেরই একটি কমন কিন্তু একেবারে ফান্ডামেন্টাল বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ফিরআউন কিংবা নমরুদের দিকে তাকিয়ে। র্যান্ড, কিংবা সম্প্রীতি বাংলাদেশ, কিংবা মুভ ফাইন্ডেশন, জেমসটাউন ফাউন্ডেশন- এদের সবার লক্ষ্যও অভিন্ন। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে মুনাফিক আর ইমানদারদের শিবিরকে আলাদা করে দিচ্ছেন। তারা ঠিক করে দিচ্ছে তাদের সিস্টেমের পার্স্পেক্টিভে 'সভ্য', 'প্রগতিশীল’, 'লিবারেল’, 'অসাম্প্রদায়িক’, ’মুক্তিযুদ্ধের চেতনা', ’একাত্তরের চেতনা' ইত্যাদি কুফর ও নিফাকের ফিল্টারে উত্তীর্ণ হতে হবে, না হয় 'জঙ্গী', ’টেরোরিস্ট', ’এক্সট্রিমিস্ট’ ইত্যাদি বরাদ্দকৃত ট্যাগ সাপ্লাই করা হবে এবং তাদের রক্তকে প্রবাহিত করা জায়েজ করে ফেলা হচ্ছে। তাদের কার্যক্রম এ কথা সুস্পষ্টভাবেই ঘোষণা দিচ্ছে যে তারা আমাদেরকে তাদের স্ট্যান্ডার্ডে উত্তীর্ণ হতে বাধ্য করার চেষ্টায় লিপ্ত, তারা সীমানা একে দিচ্ছে নামাজ রোজা করলেও তুমি আমাদের হতে নিরাপদ, কিন্তু শারী'আহ প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন লালন করলেও তুমি অপরাধী। এর মাধ্যমে মুমিন ও মুনাফিক পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে। স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে কারা দাজ্জালের ইন্টারফেইথ সিস্টেমকে অমান্য করে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ইসলামকে রক্তে ধারণ করে জানমাল ও দুনিয়ার বিনিময়ে জান্নাত ক্রয় করতে আগ্রহী। এবং আরো প্রতীয়মান হয়ে যাচ্ছে কারা কুফফারদের দাজ্জালি সিস্টেমের নিকট নিজেকে সাবমিট করে জাহান্নামকে নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নিতে আগ্রহী। যারা জান্নাত কিনে নিয়েছে তাদেরকে জঙ্গী-সন্ত্রাসী হয়েই থাকতে হবে, কারণ ফিরআউনদের সিস্টেমে মুসা(আ)রাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়। আর যারা জাহান্নাম চুজ করেছে তাদের চলাফেরা যেন আমাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়। ড্রোন থেকে নিরাপদ থাকলেও তারা জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারবে না।
আদাম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করলে এ ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায় যে হক্ব বাতিলের দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে হক্বপন্থীগণ সর্বদায় সংখ্যালঘু। সেটা হোক আসহাবে কাহফের গুহাবাসীগণ, কিংবা আসহাবুল উখদুদের মুমিনগণ।
বর্তমানেও আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতপ্রাপ্ত কিছু বান্দা-বান্দী আছেন, যারা না পায় ত্বগুতের চোখ রাঙানির ভয়, না আছে প্রতারক দুনিয়ার চিন্তা, না আছে সমাজপূজার ব্যাধি। ঠিকই অবলীলায় সারা জীবন ব্যয় করে যাচ্ছে আল্লাহর পথে।
সে কারো কাছে খারেজি, কারো কাছে সন্ত্রাসী, আবার কোনো কোনো ননসেন্সের কাছে ব্রেনওয়াশড কালবুন্নার।
এরা দরিদ্র্য, ভুখা, অনুন্নত। তবুও বিশ্ব ত্বগুত সমাজের যুদ্ধ চলতে থাকে আল্লাহর কিছুসংখ্যক সৈনিকদের বিরুদ্ধে, এক অসম যুদ্ধ। এদের ব্যাপারে ত্বগুত সমাজ একমত, সেটা হোক দাজ্জালের সৈনিক আম্রিকা, কিংবা নব্য অ্যানিমিজম কিংবা প্যান্থেইস্টিক বিলিফ সিস্টেমের আগের স্টেপ অ্যাথিজমের অনুসারী চিন রাশিয়া।
আল্লাহর মনোনীত বান্দাদেরকে শেষ না করলে, কল্কি অবতারের শত্রু অসুরদেরকে হত্যা না করলে সারা বিশ্বে মানবপূজা ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠা হবে কিভাবে?
এই গুরাবাই তো ইবলিশের প্রতিশ্রুত ইউটোপিয়ার শত্রু। এদেরকে না শেষ করলে ইউএনের নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের কী হবে?
সুতরাং, এদেরকে আগে শেষ করতে হবে। কেননা এরা আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। এরা ইউএনের দুশমন, এরা ডেমোক্রেসির দুশমন, এরা আম্রিকা চিন রাশিয়ার দুশমন, এরা ইব্লিশের ইউটোপিয়ার দুশমন। যেমনটা দুশমন ছিল ফিরআউন, নমরুদ থেকে শুরু করে বুশ।
কাফিরদের কাছে মুসলিমরা ফাসাদ সৃষ্টিকারী। যেমনটা মুসা আলাইহিস সালাম ফিরআউনের কাছে। শাইখ উসামাহ, আব্দুল্লাহ আজ্জাম্, আওলাকিরা ননসেন্স সম্প্রদায়ের নিকটে।
বস্তুত, কাফিররা ঘোরের মধ্যে আছে। তারা যতোই ঘেউ ঘেউ করুক, কাফেলা তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছবেই। তারা যতোই ইউএন প্রতিষ্ঠা করুক, শেষে খিলাফাহকেই তারা মেনে নিবে। কাফেররা তাদের নাপাক মুখের ফুৎকারে দ্বীনকে নিভিয়ে দেওয়ার যতো চেষ্টাই করুক না কেন, আল্লাহ এ দ্বীনকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয় দান করবেন। এ দ্বীন মর্যাদার দ্বীন, এ দ্বীন তরবারীর দ্বীন।
আল্লাহর মনোনীত বান্দাদের কোনো ভয় নেই। তাদের কোনো দুঃখ নেই। তারা চিন্তিতও হবে না, তাদের কোনো ভয়ও থাকবে না। ড্রোন আকাশ কাপাতেও পারলেও তাতে কী আসে যায়? ওই ড্রোন যে আরশের নিচে গর্জন করে সেই আরশই তো আমাদেরকে ছায়া দিবে।
এরা হলো সেইসব বান্দা, যাদেরকে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেছেন নিজ অনুগ্রহে। শয়তানের কোনো ক্ষমতা নেই তাদের ওপর।
“নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্ তাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে , যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে। “ (সুরা হজ, ২৩-২৪।)
.
nwo
Comments
Post a Comment