শিক্ষাব্যবস্থা নাকি মুর্খতা?
শিক্ষাব্যবস্থা নাকি মুর্খতা?
May 15, 2019
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখলে মনে হয় স্বয়ং অভিশপ্ত ইবলিশ এসে ডিজাইন করেছে!
এই ছবিটা একাধারে অনেক কিছুর সাক্ষ্য বহন করে। নাপাক মুশরিকদের মতো দেশকে 'মা' বলতে বলতে এখন মায়ের পূজা শুরু হয়ে গিয়েছে। দেশ যেন দেবী। সবাই তাকে সেজদা করছে! মাঝখানের অভাগী যেন দেশের সিম্বলিক মুর্তি। এ দেশের স্কুলেও শপথ করানো হয় দেশকে রক্ষা করার জন্য, দেশ যেন সারাবিশ্বের মধ্যে উপরে থাকে। পুরোপুরি নিখাদ জাতীয়তাবাদ।
ফিজিক্সের পরিবর্তনের মাধ্যমে সাইন্স এখন স্পিরিচুয়ালিস্টিক আর প্যান্থেইস্টিক হয়ে গিয়েছে। এখন এটাকে সারাবিশ্বে নর্মালাইজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব অভাগা ব্যক্তিরা বিজ্ঞানী নামক মিথ্যুকদেরকে নিজেদের রব হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে, তাদের আকিদা খোজ নিয়ে দেখুন। টোটালি প্যানথেইস্ট। এটাকে বাংলাদেশেও নর্মালাইজ করার চেষ্টা করা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই ছবি তো এটাই প্রমাণ করছে। এটা যেন ন্যাচারিস্টদের পূজামণ্ডপ। ইবলিশের পোষা শুকর আম্রিকা, দাজ্জালের প্রতিনিধি, দাজ্জালের গুটি, সেই আম্রিকা এখন চায় বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে যেন মানবধর্ম কবিতা থাকে, আরো যেন থাকে নেশাখোর লালনের জীবনাদর্শ। আজ বাংলা বইতে লালনকে বলা হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক(হ্যা, সে তো অসাম্প্রদায়িকই। মুসলিমরা আল ওয়ালা আল বারাআ ধারণ করে, এসব কুফফার নির্মিত ফলস ভ্যালুতে নয়) ব্যক্তিত্ব। এমনকি মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্রে এমনও লেখা আছে সৃষ্টি ও স্রষ্টা একই! সৃষ্টির মাঝেই স্রষ্টার অবস্থান! ইয়া আল্লাহ!
আরো আছে, নাপাক মুশরিকদের কালচার থেকে ধার করে বৈশাখী পূজাতে অংশগ্রহণ অজ্ঞ মুসলিমদের মাঝে শোভনীয় করে তুলা হচ্ছে, নাপাক নোংরা অপবিত্র মুশরিকদের হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা মুর্তি সংস্কৃতিকে বলা হচ্ছে হাজার বছর ধরে বাঙালি সংস্কৃতি।
এবং সবশেষে আসাবিয়্যাতুল বাংগালিয়্যাহ পাকিস্তান আমল থেকেও আরো সুস্পষ্টভাবে আলাদা দ্বীন হিসেবে রূপ নিয়েছে। স্মৃতিসৌধ নামক সিমেন্টের টুকরাকে, বলা হচ্ছে আমাদের পরিচয়, আমাদের অহংকার! নাউজুবিল্লাহ! মাধ্যমিক বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইতে সংবিধানকে বলা হচ্ছে পবিত্র সংবিধান! এটাকে রক্ষা করা বাঙালি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব! ওয়াল্লাহি! ওয়াল্লাহি! এর থেকে শুকরও কম অপবিত্র, এর থেকে মানববর্জ্যও কম অপবিত্র!
এই শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষকদের(একাধারে সব শিক্ষক এবং সব সাব্জেক্টের শিক্ষকদেরকে দোষারোপযোগ্য বলছি না। তবে অধিকাংশই একই খোঁয়াড়ের) তুলনা যেন একপাল কুকুরের সাথে। যারা হুকুমের গোলাম আরো বড় পর্যায়ের কুকুরের।
একজন শিক্ষার্থী যদি বইয়ের সাথে সাদৃশ্য রেখে কুফর শিরক আসাবিয়্যাহ সংক্রান্ত ভাষ্য তার পরীক্ষার খাতায় লিখে, তবে সে নাম্বার পাবে। একজন শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে তাই পড়ায়, যা বোর্ড পাঠ্যপুস্তকে আছে। অন্ধের মতো। বধিরের মতো। ওয়াল্লাহি! এরা চোখ থাকতেও অন্ধ। কান থাকতেও বধির। পাঠ্যপুস্তকে বলা হচ্ছে বিবর্তনবাদ সত্য, এরা মুর্খের মতো শিক্ষার্থীদেরকে তাই পড়াবে। যদি লেখা থাকে সেক্যুলারিজম, কমিউনিজম, ডেমোক্রেসি 'পবিত্র’ সংবিধানের মূলনীতি, এরাও বাচ্চাদেরকে তাই পড়াবে।
আবার আজকাল যুক্ত হয়েছে জেনারেশিন ব্রেকথ্রু নামক চটিশিক্ষা। কিভাবে একটা জেনারেশনকে নির্লজ্জ, বেহায়া, ব্যভিচারী, অসভ্য করে তুলা যায়, তার সব পাঠ ওতে আছে।
অভিভাবকরাও কি কম যায়? তার সন্তান স্কুলে যেয়ে ফ্রিমেসন রবীন্দ্রনাথের দেবীবন্দনা পাঠ করে, শিরক করে, কুফর করে, অশ্লীলতায় ডুবে থাকে, এসব কি তারা জানে না? আসলে কতোজনই বা এসব ব্যাপারে জ্ঞান রাখে? বা রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে?
এদের টার্গেটই সন্তানদেরকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার আড়ালে মডারেট-মুনাফিক তৈরীর কারখানা থেকে সার্ফিফিকেট পেয়ে চাকরগিরি করে কামলা খাটানো, যাতে মাইনে দিয়ে বাড়ি বানাতে পারে।
আচ্ছা এসব বাস্তবজ্ঞানহীন কাণ্ডজ্ঞানহীন শিক্ষকরা, অভিভাবকরা কি ইমান রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে?
এদের থেকে কুকুর বিড়ালও ভালো, তারা তো আল্লাহর অনুগত। এদের থেকে পিপড়াও ভালো, সে তো আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে!
আপনি ভাই বোন যেই হোন না কেন, বলবো জীবনটাকে মুল্যায়ন করুন। এভাবে শিরক কুফরে নিজেকে ডুবিয়ে রাখবেন না। তারা আপনাকে জাহান্নাম থেকে বাচাবে না। তারা আপনাকে কবরের আজাব থেকে বাচাবে না। হাশরের ময়দানে আপনার জন্য সুপারিশও করবে না।
সুতরাং নিজের জীবনটাকে মূল্যায়ন করুন। এভাবে নিজেকে ধ্বংস করবেন না।
আল্লাহ বলেন,
“তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।
তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মত প্রশস্ত। এটা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারীদের জন্যে। এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী। (সুরা হাদিদ, ২০-২১)
[এরকম কড়া ভাষায় কথা বলার জন্য আমি মোটেই দুঃখপ্রকাশ করবো না। আমি কখনোই পরোয়া করি না আমার ব্যাপারে কী বলা হচ্ছে, সর্বদা তাই বলি, যা বলা অপরিহার্য।]
.
শিক্ষাব্যবস্থা
Comments
Post a Comment