তাকফীর!
শরিয়াহ যাকে সমর্থন করে না বা বৈধ্যতা দেয় না। এমন একটা অনুও যদি কেউ সমর্থন বা বৈধ্য মনে করে তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। এটা ইমান ভঙ্গের দশ উসুল কারন (শর্ত-আইন-নীতিমালার) অন্তর্ভুক্ত। যদি কারো মধ্যে এর একটির প্রতি সাহায্য,সমর্থন বৈধ্যতার মন-মানসিকতা লক্ষ্য করা যায় তাহলে সে তাদেরই একজন বলে গন্য হবে। (নাওয়াকিদুল ইসলাম)
এক্ষেত্রে শরিয়াহয় বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার কোনো অবকাশ নেই। বিবর্তন,উদারনৈতিক মডারেট, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ,গণতন্ত্র তথা ডেমোক্রেসী,পুঁজিবাদ,রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজিম,অসাম্প্রদায়িকতা,স্যাকুলারিজম, নারীবাদ তথা ফেমেনিজমসহ রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামরিক, সামাজিক, প্রতিটা সাবজেক্ট এর উপর শরিয়াহর ডকট্রিন ব্যতিত্য এই পৃথিবীতে যত ডক্ট্রিন ওরফে মতবাদ রয়েছে সব পরিত্যায্য। যেকেউ এ থেকে পবিত্র না হবে এবং শরিয়াহর মেজাজের সমর্থনে আপোষহীনতার আমল না পাওয়া পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যাত ।
এজন্যই অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আসা রুহগুলো অস্থায়ীভাবে বসবাস শেষে কবরে কঠোরভাবে করা জেরার ৩ টি প্রশ্নের মধ্যে একটি হলোঃ
তোমার দ্বীন (মতবাদ,ডকট্রিন,আইন,বিধান,সংবিধান,জীবন ব্যবস্থা) কি ছিলো?
অর্থাৎ, তুমি কোন রুলসে তোমার জীবন অতিবাহিত করেছো?
মানুষ কি মনে করে যে, তাকে নিরর্থক ছেড়ে দেয়া হবে?
সূরাঃ আল-ক্বিয়ামাহ ৩৬
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রবিন্দু থেকে। তাকে পরীক্ষা করার জন্য, এজন্য তাকে করেছি শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির অধিকারী। (তাইসিরুল কুরআন )
আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন বলবেন :
﴿ أَوَ لَمۡ نُعَمِّرۡكُم مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجَآءَكُمُ ٱلنَّذِيرُۖ ﴾ [فاطر: ٣٧
অর্থাৎ “আমি কি তোমাদেরকে এতো দীর্ঘ জীবন দান করিনি যে, তখন কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে চাইলে উপদেশ গ্রহণ করতে পারত? তোমাদের নিকট তো সতর্ককারীও এসেছিল।” (সূরা ফাত্বির ৩৭ আয়াত)
ইমান আনার পূর্ব শর্ত হচ্ছে তাকফির করা। [নাওয়াকিদুল ইসলাম]
ইসলামে শাস্তির বিধানগুলোর উদ্দেশ্য লোকেদের অপরাধ থেকে মুক্ত রাখা। শাস্তির বিধানগুলো বন্ধ করে দিলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। ইসলামে কঠোরতা প্রয়োগ করা হয় শান্তির উদ্দেশ্যে।
তাকফীর করার উদ্দেশ্য লোকেদেরকে দলে দলে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেওয়া নয়৷ বরং তাকফীরের উদ্দেশ্য লোকেদের ইমান যেন সংরক্ষিত থাকে, লোকেরা যেন শিরক ও কুফরের ব্যাপারে সতর্ক থাকে। তারা যেনো দ্বীন বহির্ভুতদের সাথে পার্থক্য বজায় রেখে চলতে পারে। আলিমরা রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে তাকফীরের আমল ছেড়ে দিলে সমাজ ধীরে ধীরে কুফর ও শিরকের দিকে ঝুঁকে পড়তে থাকে।
[মধ্যমপন্থার অর্থ তাকফীর ছেড়ে দেওয়া নয়, আবার তাকফীরের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা নয়। মুরজিয়া হয়ে যাওয়া নয়, কিংবা খারেজী হয়ে যাওয়া নয়।]
❝আল্লহ ﷻ সুবহানাহুওয়া তা'আলা সেই উলামাদের প্রতি রহম করুন যারা ইস্তিকামাতের মানহাজের অনুসরণ করেছেন। মুরতাদদের হুকুম অধ্যায়ে তাদের কেউ বলেননি যে, কেউ যদি কুফরী কথা উচ্চারণ করে বা কোন কুফরি কাজ করে এবং (যদিও) সে জানে না যে, এটা শাহাদাতাইনের সাথে সাংঘর্ষিক, (এজন্য) তার অজ্ঞতার কারণে তাকফির করা হবে না! (অর্থাৎ অজ্ঞতা তাদের তাকফিরের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হবে না)❞
____
ইমাম আব্দুর রহমান ইবনু হাসান (رحمه الله)
[ দুরারুস-সানিয়্যাহ | 11/479 ]
ইমাম আল-আল্লামাহ আবদুর রহমান ইবনু হাসান আন-নাজদী আলুশ শাইখ رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেনঃ
❛এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আল্লহ ﷻ সুবহানাহুওয়া তাআলা জাহিলিয়্যাতের যুগের (প্রাক-ইসলামী যুগের) মুশরিকদের ওজর দেননি, যাদের কাছে কোন কিতাব ছিলো না যা তাদেরকে তাদের কৃত শিরক আল আকবার সম্বন্ধে সতর্ক করবে! তাহলে (বর্তমানে) যে ব্যক্তির হাতের মধ্যে আল্লহর ﷻ কিতাব আছে যা থেকে সে তিলাওয়াত করে ও শুনে সে কীভাবে ওজরপ্রাপ্ত হতে পারে? নিঃসন্দেহে এটি (কুরআন) আল্লহর ﷻ বান্দাদের উপর তার ﷻ হুজ্জাহ।❜
[ফাতাওয়া আল-আইম্মাহ আন-নাজদিয়্যাহ : খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-২২৬]
ইমামুল মুফাসসিরিন, আল-মুজতাহিদ ইবনু জারির আত-ত্ববারী رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ [মৃত্যু ৩১০ হিজরী] আসল আদ-দ্বীনের (দ্বীনের ভিত্তি) ব্যাপারে আলোচনা উল্লেখ করার পর বলেন,
❛যে ব্যক্তি তাকলীফের (যে বয়সে শরীয়াহ'র বিধিবিধান প্রযোজ্য) বয়সে উপনীত হয়েছে তার জন্য অজ্ঞতার কোন ওজর/অজুহাত নেই।
[আত-তাবসীর ফি মা'আলীম আদ-দীন, পৃষ্ঠা-১৩২]
ইমাম আবদুল্লাহ আবা বুতাইন আন-নাজদী رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেনঃ
❛তাওহীদকে জানার দায়িত্ব আপনার, যার জন্য আল্লহ ﷻ গোটা জ্বীন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং এর দিকে আহ্বানকারী সমস্ত রসূল পাঠিয়েছেন!
এছাড়াও, তাওহীদের বিপরীত বিষয় জানার জন্য আপনি দায়ী আর তা হলো শিরক, যা আল্লহ ﷻ ক্ষমা করেন না এবং এই বিষয়ে অজ্ঞতার কোন অজুহাত নেই এবং এতে অন্ধ অনুসরণও গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি আসলুদ্ দ্বীন/আসলুত্ তাওহীদ/দ্বীনের ভিত্তির ভিত্তি (আসল)!❜
📕দুরারুস সানিয়্যাহ ১২/৫৯
ইমাম আশ শাওকানী رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেনঃ
«ومن وقع في الشرك جاهلا لم يعذر، لأن الحجة قامت على جميع الخلق بمبعث محمد- صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- فمن جهل فقد أُتي من قبل نفسه، بسبب الإعراض عن الكتاب والسنة، وإلا ففيهما البيان الواضح كما قال سبحانه في القرآن: {تبيانا لكل شيء وهدى ورحمة}، وكذلك السنة قال أبو ذر- رضي الله عنه-: «توفي محمد -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- وما ترك طائرا يقلب جناحيه بين السماء والأرض إلا ذكر لنا منه علما، أو كما قال- رضي الله عنه-.
فمن جهل فبسبب إعراضه، ولا يعذر أحد بالإعراض.»
❛যে কেউ অজ্ঞতা বশত শিরকে পতিত হয় সে উযরপ্রাপ্ত হবে না। কেননা রসূলুল্লহ ﷺ এর আগমনের মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টির উপর হুজ্জাহ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সুতরাং, যে কেউ অজ্ঞ/জাহিল তবে এটা তার নিজের থেকেই এসেছে (সে নিজেই দায়ী), কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কারণে। যেমনটা কিতাব এবং সুন্নাহ উভয়েই বর্ণনা করা হয়েছে, যেমনটা আল্লহ ﷻ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেনঃ
وَ نَزَّلۡنَا عَلَیۡكَ الۡكِتٰبَ تِبۡیَانًا لِّكُلِّ شَیۡءٍ وَّ هُدًی وَّ رَحۡمَۃً وَّ بُشۡرٰی لِلۡمُسۡلِمِیۡنَ
আর আমরা আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ। [১৬/৮৯]
এবং সুন্নাহয় (হাদীসে) বর্ণিত হয়েছে, আবু যার্র رَضِيَ اللّهُ عَنْهُ বলেনঃ
রসূলুল্লহ ﷺ আমাদের এমন অবস্থায় রেখে গেছেন যে আসমান ও জমিনের মধ্যে এমন কোন পাখি রেখে যাননি যা তার ডানাগুলো ঝাপটায় আর এব্যাপারে তিনি আমাদের ইতিমধ্যেই ইলম (জ্ঞান) প্রদান করেননি। [মুসনাদ আহমাদ-২১৪৩৯, হাদিসের মান-হাসান]
এছাড়া তিনি رَضِيَ اللّهُ عَنْهُ বলেনঃ
যে ব্যক্তি অজ্ঞ/জাহিল থাকবে তা তার নিজ উপেক্ষা বা দ্বীন থেকে বিমুখতার কারণে, আর বিমুখতার কারণে কোন ব্যক্তি উযরপ্রাপ্ত হবে না।❜
📕আল ফাতহুর রব্বানী ১/১৪৫
Comments
Post a Comment