গ্র‍্যাভিটি'র যাদুবৈজ্ঞানিক শিকড় এবং তার শিরচ্ছেদ......

  

গ্র‍্যাভিটি'র যাদুবৈজ্ঞানিক শিকড় এবং তার শিরচ্ছেদ......

May 30, 2019

 

গ্র‍্যাভিটি হলো কুফরী হেলিওসেন্ট্রিজম কাল্টের প্রাণ। এই গ্র‍্যাভিটিই গ্লোব আর্থকে টিকিয়ে রেখেছে।

জুডিও-ব্যাবিলনিয়ান যাদুবিজ্ঞানের শিষ্য যাদুকর পিথাগোরাস ঐতিহাসিকভাবে হেলিওসেন্ট্রিজম কাল্টের সূচনা করে। সেই তার মিস্ট্রি স্কুলের শিষ্যদের মাঝে গোলক জমীনের ধারণা প্রতিষ্ঠা করে যায়। কিন্তু গ্লোব গ্র‍্যভিটি ছাড়া অচল। এজন্য যাদুবিজ্ঞানীদের কাছে গ্র‍্যাভিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যযুগের হার্মেটিস্ট যাদুবিজ্ঞানীদের কাছে গ্র‍্যাভিটির নাম ছিল ম্যাগনেটিজম, অ্যাফিনিটি, অ্যাট্রাকশন।

অ্যারিস্টটলের মতো মিস্টিক্সরা গ্র‍্যাভিটির ব্যাপারে ইশারা দিয়ে দিয়েছিল।

”In the 4th century BC, the Greek philosopher Aristotle believed that there is no effect or motion without a cause. The cause of the downward motion of heavy bodies, such as the element earth, was related to their nature, which caused them to move downward toward the center of the universe, which was their natural place. Conversely, light bodies such as the element fire, move by their nature upward toward the inner surface of the sphereof the Moon. Thus in Aristotle's system heavy bodies are not attracted to the Earth by an external force of gravity, but tend toward the center of the universe because of an inner gravitas or heaviness.“ (উইকি)

এমনকি ইস্টার্ন মিস্টিসিজমের অনুসারী আর্যভট্ট মনে করতো পৃথিবী গতিশীল। তাহলে আমরা কেন ছিটকে যাই না তা ব্যাখ্যার জন্য গ্র‍্যাভিটির মতো একটি শক্তির সংজ্ঞা প্রদান করে।

“.....Aryabhata first identified the force to explain why objects do not spin out when the Earth rotates,....." (উইকি)

ব্রহ্মগুপ্তের মতো মালাউনও গ্র‍্যাভিটি সম্পর্কিত ব্যাপারে বলে গিয়েছে। “ Indian astronomer and mathematician Brahmagupta described gravity as an attractive force and used the term "gurutvākarṣaṇam (गुरुत्वाकर्षणम्)" for gravity.“ (উইকি)

এদের জীবনী পড়লেই আপনারা বুঝতে পারবেন তারা কতোটা অকাল্ট প্র‍্যাক্টিসে ডুবে ছিল। এদের সাড়া জীবনটাই চলে গিয়েছে শয়তানি কুফরী মেটাফিজিক্সের উন্নয়ন সাধন করতে, প্যাগান মেটাফিজিক্যাল ডক্ট্রিনকে ডিকোড করে ম্যাথম্যাজিক্যাল ফর্মে রূপ দিতে। এটা আশা করি আপনারা একটু খোজাখুজি করলেই বুঝতে পারবেন। এজন্য আর কষ্ট করে ডকুমেন্ট নিয়ে আসছি না।

গ্রিক ফিলোসফি আরবে প্রবেশ করাতে হাজার বছরের প্রতিষ্ঠিত জিওসেন্ট্রিক কসমোলজি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। মানুষের মাঝে প্রশ্ন ঘুরতে থাকে পৃথিবীর আকার নিয়ে। পরে কিছু অভিযাত্রীক জমীনের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে বলতে থাকে পৃথিবী আসলে গোল। ব্যাপারটা অদ্ভুত। একই সাথে অত্যন্ত বায়াসড। কারণ মেইনস্ট্রিম ফ্ল্যাট আর্থ ম্যাপ অনুযায়ী তা আসলে নর্থপোলকে কেন্দ্র করে ঘোরা। এটা মোটেই গ্লোব আর্থকে প্রমাণিত করে না।

তারপর আরবদের হাতে গড়ে ওঠা সুডোসাইন্স ইউরোপে প্রবেশ করে। এতে সেখানে জন্ম হয় সাইন্টিজমের দেবতা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, গ্যালিলিও, কেপলার, নিউটন প্রমুখদের।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি অন্যান্য মিস্টিক্সদের থেকে ব্যতিক্রম। তাকে এখনকার বিজ্ঞানীদের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কারণ সে তার যাদুচর্চাকে শুধু ফিলোসফিক্যাল ব্যাপারগুলোতেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং যাদুবিজ্ঞানের প্রিন্সিপল মেনে টেকনোলজি উদ্ভাবনের মতো এক ঐতিহাসিক কাজ করেছিল। ভিঞ্চিই মেকানিক্যাল নলেজ আর ফিলোসফিক্যাল নলেজের সমম্বয় করে। মেশিনের মেকানিজমকে অকাল্ট ফিলোসফিক্যাল ওয়ার্ল্ডভিউতে ব্যাখ্যা দেওয়া শুরু করে। এটা মিস্টিক্সদের জন্য নিঃসন্দেহে এক নতুন অধ্যায়। এবং সেই প্রচেষ্টা এখনও চালু আছে।

এই ভিঞ্চিও গ্র‍্যাভিটির ধারণা দিয়ে গিয়েছে। বরং সে সর্সারির ফোর এলিমেন্টসের পর গ্র‍্যাভিটিকেও যুক্ত করেছে।

“Leonardo da Vinci describes kinetic energy as the "mother and origin of gravity." He describes two pairs of physical powers, all stemming from a metaphysical origin, which have an effect on everything: abundance of force and motion, and gravity and resistance. He associates gravity with the 'cold' classical elements, water (wet) and earth (dry), calling its energy infinite." (উইকি)

এবং সবশেষে নিউটন এসে গ্র‍্যাভিটি থিওরীর জন্ম দেয়।

জানেন এই নিউটন কে ছিল?

সে সারা জীবন যাদুবিজ্ঞানে ডুব দিয়ে কাটিয়েছে।

সে আলকেমিতেও এক্সপার্ট ছিল। ”English physicist and mathematician Isaac Newtonproduced many works that would now be classified as occult studies. These works explored chronology,alchemy, and Biblical interpretation (especially of theApocalypse)“(উইকি)

“so many of his experimental studies used esoteric language and vague terminology more typically associated with alchemy and occultism.”(উইকি)

“Much of what are known as Isaac Newton's occult studies can largely be attributed to his study of alchemy.(উইকি)

এমনকি তার প্রিন্সিপিয়া অফ ম্যাথমেটিকাও বিভিন্ন অকাল্ট নলেজ থেকে লিখিত। ”Many of the discoveries and mathematical formula found within Newton's Philosophiæ Naturalis Principia Mathematica can be linked, often very directly, to his occult and alchemical studies.”(উইকি)

আরেকটি ব্যাপার হলো, নিউটন বিভিন্ন সিক্রেট সোসাইটির সাথে যুক্ত ছিল।

“Isaac Newton has often been associated with various secret societies ..."(উইকি)

এমনকি সম্ভবত সে ৩৩ডিগ্রি ফ্রিমেসন ছিল। কেননা অনেক ম্যাসনিক স্থাপনা তার নামে উৎসর্গকৃত। Lodge of England নামক ম্যাসনিক অর্গানাইজেশনের একজন প্রতিষ্ঠাতা ছিল এই মালাউন নিউটন।

“ Isaac Newton is believed to have been a 33-degree Scottish RiteFreemason since he was one of the 1717 founders of the Lodge of England,[33] and by virtue of the number of masonic buildings have been dedicated in his honour.“(উইকি)

নিউটনের প্রতিষ্ঠিত যাদুবিদ্যাভিত্তিক সোসাইটির লোগো।

নিউটনের সাথে রোজাক্রুশানিজমেরও সম্পর্ক ছিল। রোজাক্রুশানিজম আসলে সেসকল বানী ইসরাইলের লোকদেরই বিশ্বাস যারা কাব্বালাহসহ বেশ কিছু যাদুবিজ্ঞানকে  দ্বীন হিসেবে নিয়েছিল।

“Perhaps the movement which most influenced Isaac Newton was Rosicrucianism.“(উইকি)

শয়তানের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিউটনের সম্পর্ক দেখুন, ”The Rosicrucian belief in being specially chosen for the ability to communicate with angels or spirits is echoed in Newton's prophetic beliefs.“(উইকি)

নিউটনের কিছু বই যেন রোজাক্রুশানিজমের কিতাবেরই ইংলিশ অনুবাদ। “Newton left behind a heavily annotated personal copy of The Fame and Confession of the Fraternity R.C., by Thomas Vaughan which represents an English translation of The Rosicrucian Manifestos.“(উইকি)

রোজাক্রুশানিস্টরা নিউটনকে তাদের ভাই মনে করতো। ” The Ancient & Mystical Order Rosae Crucis has always claimed Newton as a frater.”(উইকি)

এমনকি তাকে রোজাক্রুশানিজমের সদস্য ভাবা হতো তার জীবদ্দশাতেই। ” During his own life, Newton was openly 'accused' of being a Rosicrucian, as were many members of The Royal Society.“(উইকি)

নিউটন ছিল রোজাক্রুশানিজমের ভক্ত। সে তার বইতেও তাদের আকিদা আর বক্তব্য শেয়ার করেছে। ”from his writings it does appear that he may have shared many of their sentiments and beliefs.”(উইকি)

নিউটন আবার পিথাগোরাসেরও ফ্যান ছিল।

তো এই হচ্ছে নিউটন। বিজ্ঞানী। তার মতো অভিশপ্তের হাতেই রিভাইভ্যাল হয় গ্র‍্যাভিটির।

এই কথিত গ্র‍্যাভিটি যাদুবিজ্ঞানীদের স্পিরিচুয়াল লাইফেও ভূমিকা রাখে। এটা তাদের আকিদার অংশ। একটি সস দেখুন।↓↓↓↓↓↓

বুঝতেই পারছেন অকাল্ট শাস্ত্র উদ্ভূত gurutvākarṣaṇam/ইনফিনিট এনার্জিই আজকের গ্র‍্যাভিটি।

____________________

 গ্লোবের কথা বললে একটি প্রশ্ন এসে যায়, তা হলো পৃথিবী যদি আসলে বলের মতো হয় তবে সমুদ্রের পানি, আমরা, পশুপাখি ইত্যাদি কিভাবে জমীনের সাথে লেগে থাকে?

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্যই জন্ম হয় গ্র‍্যাভিটির। আসলে একটি মিথ্যা কথা বললে সেটা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখতে গেলে আরো মিথ্যার জন্ম দিতে হয়। এ কারণেই গ্লোবের মতো মিথ্যাকে বাচাতে গিয়ে আরো একটি মিথ্যার সূত্রপাত হয়। এবং এই গ্র‍্যাভিটিই হয় হেলিওসেন্ট্রিজম কাল্টের জীবন। কারণ গ্র‍্যাভিটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে গ্লোব মিথ্যা, সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা মিথ্যা, গ্যালাক্সি মিথ্যা, ক্লাস্টার মিথ্যা, সুপার ক্লাস্টার মিথ্যা, বিগব্যাং মিথ্যা, ইভল্যুশন মিথ্যা.........  চেইন রিঅ্যাকশন....

অর্থাৎ আমরা যদি গ্র‍্যাভিটিকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে পারি তাহলে হেলিওসেন্ট্রিজমের খেলা শেষ।

এখন আমরা স্টেপ বাই স্টেপ গ্র‍্যাভিটিকে মিথ্যা থিওরী প্রমাণ করবো ইনশাআল্লাহ।

১/ আমরা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছি যে ভূপৃষ্ঠ থেকে যতো উচ্চতাতেই আমরা উঠি না কেন, আমরা কোনো কার্ভেচারের দেখা পাই না। যদিও বর্তমান কার্ভেচারের হিসাব অনুযায়ী দেখা পাওয়ার কথা।

দেখুন হাই অ্যালটিটিউড বেলুনের ভিডিও-

https://youtu.be/CcqF6s-1QEM

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1848916595366541&id=1685985511659651

এখন যদি পৃথিবীর কার্ভেচার না দেখা পাওয়াকে হেলিওসেন্ট্রিক কাল্ট অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতে চাই তাহলে এই একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়-

(ক) গোল পৃথিবীর আকার আসলে আরো বড়। এ কারণে আমরা কার্ভ দেখি না।

আর কিছু বলার আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি আমরা এই পয়েন্টটিকে সঠিক বলে ধরে নেই তাহলে যেসব ব্যাপারগুলো আসে-

• পৃথিবীর আকার ধরে যেসব ফর্মুলা ও হিসাব নিকাশ এতোদিন যা করা হতো তা সব ভুল। এখন তা নতুন করে সাজাতে হবে।

• ‎পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বাড়াতে হবে। কারণ আরো বড় পৃথিবী মানে আরো বেশি আকর্ষণ।

• ‎এতোদিন নাসার মতো সকল স্পেস এজেন্সি যারা তাদের ছবি বা ভিডিওতে যে পরিমাণ কার্ভেচার দেখানো হয়েছে তা সব ভুল ও মিথ্যা।

• ‎পৃথিবী বড় হওয়ার কারণে চাঁদের কক্ষপথ, পৃথিবীর কক্ষপথ, স্যাটেলাইটের কক্ষপথ সংক্রান্ত সকল ম্যাথম্যাজিক্যাল ক্যালকুলেশন চেঞ্জ করতে হবে।

• ‎জোয়ারভাটার কথিত কারণও মডিফাই করতে হবে.

ইত্যাদি ইত্যাদি।

বুঝতেই পারছেন রাতারাতি এতো কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব না। আমরা যেহেতু কার্ভেচারের দেখা পাচ্ছি না, সেহেতু এই ঘটনা-

• গ্র‍্যাভিটি সংক্রান্ত সকল ম্যাথম্যাজিক্যাল ক্যালকুলেশনকে হোক্স প্রমাণ করে।

• ‎গোটা গ্র‍্যাভিটিকেই হোক্স প্রমাণ করে। আমরা যেহেতু প্রমাণ করেছি পৃথিবী সমতল, তারমানে গ্র‍্যাভিটিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ গ্র‍্যাভিটি যদি থাকতো, তবে সমতল হতে পারতো না।

• ‎গ্র‍্যাভিটি শেষ মানে গোটা হেলিওসেন্ট্রিজম কাল্ট শেষ।

প্রমাণিত- গ্র‍্যাভিটি একটি হোক্স।

২/ ওয়াটার লেভেল সবসময় প্লেইন থাকে। সেটা হোক পুকুর, খাল, নদী, কিংবা সমুদ্র। অথচ হিসাব মতে প্রতি ১০ মাইলে প্রায় ৬৬ ফুট পানি কার্ভ করার কথা। আর এই হিসাবে গ্র‍্যাভিটির ভূমিকা আছে। কিন্তু বাস্তবে ৬৬ফুট কেন, ১ফুটও পানি কার্ভ করে না।

দেখুন সাধারণ পাবলিকের এক্সপেরিমেন্ট-

https://m.facebook.com/groups/315165405515447?view=permalink&id=738524789846171

পৃথিবীকে গোল রেখে এখন এ ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে হলে ১(ক)এর দিকেই যেতে হবে। কিন্তু তা সম্ভব নয়।

এ থেকে প্রতীয়মান হয়-

• গ্র‍্যাভিটির সকল হিসাব হোক্স। কারণ, বিজ্ঞানীদের কথা অনুযায়ী যদি গ্র‍্যাভিটি থাকতো তবে পানি কার্ভ করতো। কিন্তু বাস্তবে পানি কার্ভ করে না।

• ‎গ্র‍্যাভিটি শেষ তো হেলিওসেন্ট্রিজম কাল্টই শেষ।

প্রমাণিত- গ্র‍্যাভিটি হোক্স।

৩/ আমরা দেখি প্রায় ওজনহীন ধুলিকণা বাতাসে ভেসে বেড়ায়। তাদের ওপর যেন কথিত গ্র‍্যাভিটির কোনো প্রভাবই নেই। অথচ বলা হয় এইসব কোটি কোটি ধুলিকণা নিয়ে গঠিত অ্যাটমোস্ফেয়ারকে গ্র‍্যাভিটি ধরে রাখে। এমনকি স্পেসের ভ্যাকিউমও নাকি বাতাসকে টানতে পারে না, গ্র‍্য্যভিটি এতোটাই পাওয়ারফুল!

অথচ আমরা দেখি ধুলিকণা গ্র‍্যাভিটির প্রভাবহীন।

৪/ গ্র‍্যাভিটি সমুদ্রের পানিকে আটকিয়ে রাখার সামর্থ্য রাখে কিন্তু ছোট্ট মশাকে আটকিয়ে রাখতে পারে না। ছোট্ট পিচ্চি মশা কিন্তু গোটা প্ৃথিবীর সেই শক্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে উড়ে বেড়ায় যে শক্তি গোটা সমুদ্রকে আটকিয়ে রাখতে পারে।

এখন হয়তো আপনারা বলতে পারেন যে মশার সাথে পৃথিবী অভিকর্ষ কম এ কারণে উড়তে পারে। এটাই হচ্ছে ফাদ যেটায় আপনারা পতিত হলেন। আপনাদের ভাষ্য অনুযায়ী মশা পাখা ঝাপটিয়ে গ্র‍্যাভিটির বিরুদ্ধে শক্তি অর্জন করে। তাহলে প্রশ্ন এসে যায় সে যদি সামান্য পাখা ঝাপটিয়েই উড়তে পারে তবে তার মোমেন্টাম অনুযায়ী তো তার মহাকাশে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে কী তা হয়?

মশার ভর, m=0.1g

মশার বেগ, v=30000m/s [মশা যখন পৃথিবীর সাপেক্ষে স্থির, আপনাদের হিসাব মতে পৃথিবী তখনও গতিশীল]

মশার ভরবেগ, P=0.1×30000=3000kgm/s

পাখা ঝাপ্টিয়েই যদি কথিত গ্র‍্যাভিটির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়, তাহলে মশার ভরবেগ অনুযায়ী মশার তো মহাকাশে চলে যাওয়ার কথা।

৫/ মনে করুন দুটি বস্তু m₁ ও m₂। m₁ এর ভর ১০কেজি,  m₂ এর ভর ১০০ কেজি। ধরলাম পৃথিবীর ভর M। উভয়েই ভূপৃষ্ঠ থেকে h=1 মিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে। এখন জমীনের দিকে কার কথিত আকর্ষণ বেশি হবে? F₁ নাকি F₂?

F₁= (GMm₁)/d²=10GM

আবার,

F₂= (GMm₂)/d²= 100GM

এখানে G, M এবং  10, 100 কনস্ট্যান্ট। সুতরাং, 100GM বড় 10GM থেকে।

অর্থাৎ, F₂>F₁

কিন্তু আমরা দেখি যে, গ্যালিলিওর h=ut ± ⅟₂gt² সূত্র মেনে সব সমত্বরণে পড়ে। অর্থাৎ এখানে আকর্ষণ থাকুক বা না থাকুক, পতনের ব্যাপারটা একই!

৬/ এক ফোটা বৃষ্টির পানি জমীনে আপতিত হয়। অথচ এর থেকেও ভারী মেঘমালা আল্লাহর ইচ্ছাতে আকাশে ভেসে বেড়ায়। তাহলে গ্র‍্যাভিটির খেলাটা কোথায়?

৭/ পৃথিবী নাকি গতিশীল। পৃথিবীর গড় গতি সেকেন্ডে ৩০কি.মি.। ঘন্টায় ১,০৮,০০০ কি.মি.। মানে ১০৮০০০০০০মিটার পার ঘন্টা। মনে করুন আমার ভর ৬০কেজি। মোমেন্টামের সূত্র হলো P=mv

আমার ভর, m=৬০কেজি

আমার বেগ, v=৩০×১০০০=৩০০০০m/s

তাহলে আমার ভরবেগ, P=60×30000=1800000 kgm/s

1800000 kgm/s এতো বড় মোমেন্টাম সত্ত্বেও আমি কেন ছিটকে যাই না? যেখানে সামান্য মশা মাছি ধুলা কথিত গ্র‍্যাভিটিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে উড়ে বেড়ায় সেখানে আমি এতো ভরবেগ নিয়েও কেন ছিটকে যাই না? আবার বলবেন না যে মশার চেয়ে আমার ভর বেশি এজন্য ছিটকাই না। আমার সাথে পৃথিবী যে কথিত F সেটার থেকে P অনেক বড় ও শক্তিশালী। এছাড়াও যদি একটা গ্লাসকে দড়ি দিয়ে বেধে পানি ভরে জমীনের সাথে ভার্টিক্যালি বৃত্তাকারে ঘুরানো হয় তবে পানি নিচে পড়ে না মোমেন্টামের কারণে। একটি পানির গ্লাসে যদি ৩০০গ্রাম পানি থাকে, আর দ্রুতি যদি হয় ১০কি.মি., তাহলে আমার কথিত মোমেন্টামের থেকেও তার মোমেন্টাম কম। অথচ সে ঠিকই গ্র‍্যাভিটিকে না মেনে গ্লাসে আটকিয়ে থাকে।

 সুতরাং এতো মোমেন্টাম নিয়েও কেন আমি ছিটকাই না?

এরকম আরো অনেকভাবে গ্র‍্যাভিটিকে মিথ্যা প্রমাণ করা যায়।

_______________________________

গ্র‍্যাভিটিকে অস্বীকার করলে আমাদের প্রতি বেশ কিছু প্রশ্নের তীর ছুটে আসে। যেমন গ্র‍্যাভিটি না থাকলে সবাই জমীনের দিকে আসে কেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে-

(ক) সবসময় সবকিছুর ব্যাখ্যা আমরা দিতে পারবো এমনটা নয়। কোনো কিছুর উত্তম ব্যাখ্যা দিতে না পারার মানে এই না যে অন্য কোনো মিথ্যা ব্যাখ্যাকে মেনে নিতে হবে।

(খ) সবকিছু সম্পর্কে যে সবকিছু জানা থাকবে ব্যাপারটা এরকম নয়। আমাদের জানা বা না জানা বাস্তবতায় কোনো প্রভাব ফেলে না। মনে করুন একটি টিনের কৌটার মুখ বন্ধ। এখন তার ভিতরে কোনো মেটালের টুং টুং আওয়াজ আসে। এখন একজন বললো টিনের কৌটার ভিতরে মেটাল বস্তু আছে। কিন্তু কেউ যদি বলে যে মেটালের রং না জানা পর্যন্ত আমরা এ কথা মানি না যে সেখানে কিছু আছে। তাহলে কি এটা ঠিক হবে? বস্তুত, আমরা তার রং জানি আর না জানি তাতে মেটালের কিছু যায় আসে না। মেটাল মেটালের জায়গাতেই থাকবে। ফ্ল্যাট আর্থের ব্যাপারগুলোও এরকম।

(গ) আমরা কুরআন সুন্নাহ থেকে জানতে চেষ্টা করি। কুরআন সুন্নাহয় না পেলে মনগড়া কোনো থিওরী দিই না।

____________________

তাহলে প্রশ্ন হলো সবকিছু জমীনের দিকে যায় কেন?

সবকিছু জমীনের দিকে যায় কারণ আল্লাহ এভাবেই সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। যদি একাধিক ঘনত্ববিশিষ্ট বস্তু একসাথে থাকে তবে অধিক ঘনত্ববিশিষ্ট বস্তু কম ঘনত্ববিশিষ্ট বস্তু হতে বেশি জমীনের নিকটে থাকে।

আল্লাহ জমীনকে ধারক হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। জমীন হলো আমাদের বাহক।

Surah Al-Mursalat, Verse 25:

أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ كِفَاتًا

আমি কি পৃথিবীকে সৃষ্টি করিনি ধারণকারিণীরূপে,

উক্ত আয়াতের তাফসীরে হাফেজ ইবনু কাসীর বলেন-

“....আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা বলেনঃ আমি জমীনের ওপর কি এই খিদমত অর্পণ করিনি যে, সে তোমাদের জীবিতাবস্থায় তোমাদেরকে স্বীয় পৃষ্ঠে বহন করছে এবং তোমাদের মৃত্যুর পরেও তোমাদেরকে নিজের পেটের মধ্যে লুকিয়ে রাখছে? তারপর জমীন যেন হেলা-দোলা না করতে পারে তজ্জন্যে আমি ওতে সুউচ্চ পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তোমাদেরকে দিয়েছি মেঘ হতে বর্ষিত পানি এবং ঝর্ণা হতে প্রবাহিত সুপেয় পানি। এসব নিয়ামতপ্রাপ্তির পরেও যদি তোমরা আমার কথাকে অবিশ্বাস করো তবে জেনে রাখো যে, এমন এক সময় আসছে যখন তোমরা দুঃখ ও আফসোস করবে, কিন্তু তখন তা কোনোই কাজে আসবে না!” (তাফসীর ইবনে কাসীর, ১৭তম খণ্ড, ৭৮৭পৃষ্ঠা)

বস্তুতঃ আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীকে এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীকে সমতল ও বিস্তৃত করা, তাতে পানির ব্যবস্থা করা, পানিকে বায়োন্সি ধর্ম দিয়ে তার বুক চিড়ে পাহাড় সদৃশ জাহাজের চলার ব্যবস্থা করা, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বৃষ্টি বর্ষণ করা, পর্বতকে গেড়ে দেওয়া, জন্তুজানোয়ারকে ছড়িয়ে দেওয়া, আকাশকে দুর্ভেদ্য ছাদ করা, রাতদিনের সুন্দর নিয়মে আবর্তন, চন্দ্র-সুর্যের ব্যবস্থা করা, নক্ষত্রের মাধ্যমে পথ চেনার ব্যবস্থা করা, মানুষের জন্য ফলমূল দিয়ে রিজকের ব্যবস্থা করা- এসবের মাঝে আল্লাহর নিদর্শন রয়েছে। আল্লাহর নিদর্শানাবলীর মাঝে একটি হলো সবকিছুকে জমীনের নিকটে থাকার প্রবণতা দিয়ে সৃষ্টি করা। যেটাকে বিকৃত করে গ্র‍্যাভিটি নাম দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহই সর্বোত্তম জানেন।

_________________

এই গ্র‍্যাভিটিকে হোক্স প্রমাণ করাতে এক সাথে অনেক কিছুরই  মৃত্যু হয়ে গিয়েছে। যেমন- গ্লোব আর্থ, হেলিওসেন্ট্রিজম কাল্ট, বিগব্যাং, ইভল্যুশন ইত্যাদি। আসলে শয়তান একটা মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠার জন্য হাজারো মিথ্যার জন্ম দিতে পারে। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।

.

ফ্ল্যাট আর্থ(সমতল পৃথিবী/জিওসেন্ট্রিক কসমোলজি)

Comments

Popular posts from this blog

AGI, Technological Singularity, Transhumanism

তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে.........

প্যাগান বিলিফের প্রত্যাবর্তন