ইলম

ইমাম ইবনু বাত্তাহ আল-উকবারী (رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ) বলেন,

مَنْ سَمِعَ الحَقَّ فأنْكَرَهُ بَعْدَ عِلْمِهِ بهِ، فَهُوَ مِنَ المُتَكَبِّرِينَ على اللهِ، وَمَنْ نَصَرَ الخَطَأَ فَهُوَ مِنْ حِزْبِ الشَّيْطَانِ.

যে ব্যক্তি সত্য সম্পর্কে শুনে, তা জানার পরেও (মেনে নিতে) অস্বীকার করে, সে আল্লহ্-র ﷻ প্রতি অহংকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আর যে ভুল কাজকে সমর্থন করে, সে হিযবূশ শাইত্বনের অন্তর্ভুক্ত।

📕আল-ইবানাহ আল-কুবরা, ২/২৪৫

নিঃসন্দেহে বই-ই হলো সর্বোত্তম সহচর—ইমাম আবু দাউদ رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল,

سُئل الإمام أبو داود السجستاني - رحمه الله -فقيل له: من تأمرنا أن نُجالِس بعدك؟ فقال: الكتب.

আপনার পরে কার সাথে বসতে (সহবত গ্রহণ করতে) আপনি আমাদের পরামর্শ দেন? 
তিনি উত্তর দিলেন: ‘কিতাবাদি/বইপত্র।’

📕আল-ফাওয়াইদ আল-মুনতাখাবাহ ১/৪১৩

∎ ইলম অন্বেষণকারীর জন্য নাসিহাহ:

∎ একজন ত্বলিবুল ইলমের জন্য কিছু মূলনীতি রয়েছে যা তাকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে—অন্যথায়, তার ইলম/জ্ঞান তার ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

❑ ইলম অর্জনে বিনয় এবং অন্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করা:

➦ইমাম ওয়াকীʿ ইবনুল জার্রহ رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেন:

لاَ يَكْمُلُ الرَّجُلُ حَتَّى يَكْتُبَ عَمَّنْ هُوَ فَوْقَهُ، وَعَمَّنْ هُوَ مِثْلَهُ، وَعَمَّنْ هُوَ دُوْنَهُ.

একজন মানুষ তখনই পরিপূর্ণ (জ্ঞানী) হয় যখন সে তার চেয়ে উচ্চতর, সমপর্যায়ের এবং নিম্নস্তরের লোকদের থেকেও (ইলম) গ্রহণ করে।
¹

➦নাফিʿ ইবনু যুবাইর رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ, আলী ইবনুল হুসাইন رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ কে বলেছিলেন:

غَفَرَ اللهُ لَكَ، أَنْتَ سَيِّدُ النَّاسِ وَأَفْضَلُهُمْ، تَذْهَبُ إِلَى هَذَا الْعَبْدِ فَتَجْلِسُ مَعَهُ؟ - يَعْنِي زَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ - فَقَالَ: إِنَّهُ يَنْبَغِي لِلْعِلْمِ أَنْ يُتْبَعَ حَيْثُمَا كَانَ.

আল্লহ্ আপনাকে ক্ষমা করুন– 
আপনি হলেন মানুষের নেতা ও সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তি, তবুও আপনি এই দাসের (যাইদ ইবনু আসলামের) নিকট যান এবং তার সাথে বসেন?

তিনি উত্তরে বলেন:
 ‘ইলম/জ্ঞান এমন জিনিস, যার পেছনে চলা উচিত, তা যেখানেই থাকুক না কেন।’
²

➦হাবীব ইবনু আবী ছাবিত رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেন:

إِنَّ مِنَ السُّنَّةِ إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ الْقَوْمَ أَنْ يُقْبِلَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا، وَلَا يَخُصَّ أَحَدًا دُونَ أَحَدٍ.

সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো, যখন একজন মানুষ লোকদের সাথে কথা বলে, সে যেন সকলের দিকে সমানভাবে মনোযোগ দেয় এবং কাউকে অন্যদের উপর অগ্রাধিকার না দেয়।
³

❑ অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা তাড়াহুড়ো নয়, বরং শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা:

➦ইমাম আয-যুহরী رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেন:

إِنَّ هَذَا الْعِلْمَ إِنْ أَخَذْتَهُ بِالْمُكَاثَرَةِ غَلَبَكَ وَلَمْ تَظْفَرْ مِنْهُ بِشَيْءٍ، وَلَكِنْ خُذْهُ مَعَ الْأَيَّامِ وَاللَّيَالِي أَخْذًا رَفِيقًا تَظْفَرْ بِهِ.

এই ইলম/জ্ঞান—যদি তুমি তা অতিরিক্তভাবে ও তাড়াহুড়ো করে গ্রহণ করতে চাও, তবে তা তোমাকে পরাস্ত করবে এবং তুমি কিছুই অর্জন করতে পারবে না। কিন্তু ধৈর্য সহকারে দিনে ও রাতে ধীরে ধীরে গ্রহণ করো—তবে তুমি সফল হবে।

➦ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইদ্রীস আশ-শাফিয়ী رَحِمَهُ ٱللَّٰهُ বলেন:

مَا طَلَبَ أَحَدٌ الْعِلْمَ بِالتَّعَمُّقِ وَعِزِّ النَّفْسِ فَأَفْلَحَ، وَلَكِنْ مَنْ طَلَبَهُ بِضِيقِ الْيَدِ وَذِلَّةِ النَّفْسِ وَخِدْمَةِ الْعَالِمِ أَفْلَحَ.

কেউ যদি অহংকার ও আত্মমর্যাদার সাথে ইলম/জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করে, সে কখনো সফল হয় না। বরং যে ব্যক্তি অল্প সম্পদ, বিনয় এবং আলিমের খিদমাতের মাধ্যমে জ্ঞান অন্বেষণ করে, সেই সফল হয়।

──────
¹ 📕সিয়ারু আʾলামিন নুবালা, ২/৮১২
² 📕 হিলইয়াতুল আউলিয়াʾ, ১/৪৮৬
³ 📕 হিলইয়াতুল আউলিয়াʾ, ৫/৬১
⁴ 📕 হিলইয়াতুল আউলিয়াʾ, ২/২৪
⁵ 📕 হিলইয়াতুল আউলিয়াʾ, ৩/১২৬

Comments

Popular posts from this blog

AGI, Technological Singularity, Transhumanism

তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে.........

প্যাগান বিলিফের প্রত্যাবর্তন