ওলামা আস সু (নিকৃষ্ট/পথভ্রস্ট উলামা)
∎ প্রশ্ন:
বর্তমান সময়ে অনেক ত্বলিবুল ইলম, উলামা আস সূ-দের কে তাদের তা‘উইলের (ভুল ব্যাখ্যার) জন্য উযর প্রদান করে। তাদের প্রতি আমরা কীভাবে জবাব দিবো?
∎ উত্তর:
সর্বপ্রথম আমাদের উচিত ‘ব্যাখ্যা’ (তা’উইল) এবং অন্যান্য ইসলামি পরিভাষার প্রকৃত অর্থ বোঝা, যাতে আমরা যথার্থ ব্যক্তির ওপর সঠিক শরিয়াহ‘র বিধান প্রয়োগ করতে পারি। তা’উইল হলো এমন একটি প্রক্রিয়া,
যেখানে একটি স্পষ্ট শরয়ি দলিলের সুস্পষ্ট অর্থ পরিত্যাগ করে অন্য কোনো দলিলের ভিত্তিতে নতুন অর্থ গ্রহণ করা হয়।
আমরা বলি, ইবাদাত, আইন প্রণয়ন, আনুগত্য, নেতৃত্ব এবং কর্তৃত্ব—এই সকল বিষয়ে একমাত্র আল্লহ্-র ﷻ তাওহীদের আক্বীদাহ (বিশ্বাস) স্পষ্ট ও প্রমাণিত দলিল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। সত্যপন্থীরা এই বিশ্বাসেই অটল থাকে।
তবে কি বলা যায়, এসব উলামা আস সূ-দের কাছে এমন কোনো শরয়ি দলীল আছে, যার ভিত্তিতে তারা এবং তাদের ত্বওয়াগীত শাসকরা স্পষ্ট শিরক ও প্রকাশ্য কুফরের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে?
আল্লহ্ تبارك وتعالى আমাদের এমন কিছু বলার থেকেও রক্ষা করুন।
আল্লহ্ سبحانه وتعالى বলেন:
اَمۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡهِمۡ سُلۡطٰنًا فَهُوَ یَتَكَلَّمُ بِمَا كَانُوۡا بِهٖ یُشۡرِكُوۡنَ
নাকি আমরা তাদের কাছে এমন কোন প্রমাণ নাযিল করেছি যা তারা যে শির্ক করছে সে সম্পর্কে বক্তব্য দেয়?
(রুম ৩০/৩৫)
এখানে ‘সুলত্বন’ বলতে দলিল হিসেবে বোঝানো হয়েছে। আল্লহ্ ﷻ কখনো শিরকের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাঠিয়েছেন, এটা আল্লহ্ ﷻ পরিষ্কারভাবে নাকচ করেছেন। তিনি ﷻ আরও বলেন:
وَ كَیۡفَ اَخَافُ مَاۤ اَشۡرَكۡتُمۡ وَ لَا تَخَافُوۡنَ اَنَّكُمۡ اَشۡرَكۡتُمۡ بِاللّٰهِ مَا لَمۡ یُنَزِّلۡ بِهٖ عَلَیۡكُمۡ سُلۡطٰنًا ؕ فَاَیُّ الۡفَرِیۡقَیۡنِ اَحَقُّ بِالۡاَمۡنِ ۚ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
আর তোমরা যাকে আল্লহ্-র ﷻ শরীক কর আমি তাকে কিরূপে ভয় করব? অথচ তোমরা ভয় করছ না যে, তোমরা আল্লহ্-র ﷻ সাথে শরীক করছ এমন কিছু, যার পক্ষে তিনি তোমাদের কাছে কোন প্রমাণ নাযিল করেননি। কাজেই যদি তোমরা জান তবে বল, দু’ দলের মধ্যে কোন দল নিরাপত্তা লাভের বেশী হকদার।
[আনআম, ৬/৮১]
তিনি ﷻ বলেন:
وَ مَنۡ یَّدۡعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰـهًا اٰخَرَ ۙ لَا بُرۡهَانَ لَهٗ بِهٖ ۙ فَاِنَّمَا حِسَابُهٗ عِنۡدَ رَبِّهٖ ؕ اِنَّهٗ لَا یُفۡلِحُ الۡكٰفِرُوۡنَ
যে কেউ আল্লহ্-র ﷻ সঙ্গে অন্য ইলাহ্ কে আহ্বান করে যার কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই—তাদের হিসাব তাদের রব্ব ﷻ এর নিকট। নিশ্চিতভাবেই, কাফিররা সফল হবে না।”
(আল-মু’মিনুন: ১১৭)
আল্লহ্ عز وجل আরও বলেন,
اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اٰلِهَۃً ؕ قُلۡ هَاتُوۡا بُرۡهَانَكُمۡ ۚ هٰذَا ذِكۡرُ مَنۡ مَّعِیَ وَ ذِكۡرُ مَنۡ قَبۡلِیۡ ؕ بَلۡ اَكۡثَرُهُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ۙ الۡحَقَّ فَهُمۡ مُّعۡرِضُوۡنَ
তারা কি তাকে ছাড়া বহু ইলাহ গ্ৰহণ করেছে? বলুন, তোমরা তোমাদের প্রমাণ দাও। এটাই, আমার সাথে যা আছে তার উপদেশ এবং এটাই উপদেশ ছিল আমার পূর্ববর্তীদের সাথে যা ছিল তার। কিন্তু তাদের বেশীর ভাগই প্রকৃত সত্য জানে না, ফলে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়।
(আল-আম্বিয়া: ২৪)
এই সমস্ত আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এদের কাছে (তাদের কুফর ও শিরকের পক্ষে) কোনো দলীল প্রমাণই নেই।
সুতরাং, কিভাবে বলা যায় যে তারা তা‘উইল বা ব্যাখ্যা করছে?
বরং তাদের প্রকৃত অবস্থা হলো—তারা আল্লহ্-র ﷻ কালাম/বাণীকে বিকৃত করছে, তার শব্দের অর্থ পরিবর্তন করছে এবং তাঁর আয়াতসমূহে কুফরী প্রদর্শন করছে।
যেমন আল্লহ্ ﷻ বলেন:
یٰۤاَیُّهَا الرَّسُوۡلُ لَا یَحۡزُنۡكَ الَّذِیۡنَ یُسَارِعُوۡنَ فِی الۡكُفۡرِ مِنَ الَّذِیۡنَ قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِاَفۡوَاهِهِمۡ وَ لَمۡ تُؤۡمِنۡ قُلُوۡبُهُمۡ ۚۛ وَ مِنَ الَّذِیۡنَ هَادُوۡا ۚۛ سَمّٰعُوۡنَ لِلۡكَذِبِ سَمّٰعُوۡنَ لِقَوۡمٍ اٰخَرِیۡنَ ۙ لَمۡ یَاۡتُوۡكَ ؕ یُحَرِّفُوۡنَ الۡكَلِمَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَوَاضِعِهٖ ۚ
হে রসূল! আপনাকে যেন তারা চিন্তিত না করে যারা কুফরীর দিকে দ্রুত এগিয়ে যায়---যারা মুখে বলে, ‘ঈমান এনেছি’ অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি এবং যারা ইয়াহুদী তারা (সকলেই) মিথ্যা শুনতে অধিক তৎপর, আপনার কাছে আসে নি এমন এক ভিন্ন দলের পক্ষে যারা কান পেতে থাকে। শব্দগুলো যথাযথ সুবিন্যস্ত থাকার পরও তারা সেগুলোর অর্থ বিকৃত করে।
(আল-মায়িদা: ৪১)
আল্লহ্ ﷻ আরও বলেন:
وَ قَدۡ كَانَ فَرِیۡقٌ مِّنۡهُمۡ یَسۡمَعُوۡنَ كَلٰمَ اللّٰهِ ثُمَّ یُحَرِّفُوۡنَهٗ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا عَقَلُوۡهُ وَ هُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ
অথচ তাদের একদল আল্লহ্-র ﷻ বাণী শ্ৰবণ করে, তারপর তারা তা অনুধাবন করার পর বিকৃত করে, অথচ তারা জানে।
(আল-বাকারা: ৭৫)
তিনি ﷻ বলেন:
اِنَّ الَّذِیۡنَ یُلۡحِدُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِنَا لَا یَخۡفَوۡنَ عَلَیۡنَا
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহে ইলহাদ করে, তারা আমার অগোচরে নয়।
(ফুসসিলাত: ৪০)
আল্লহ্ تبارك وتعالى আরও বলেন:
یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یُّبَدِّلُوۡا كَلٰمَ اللّٰهِ ؕ
তারা আল্লহ্-র ﷻ বাণী পরিবর্তন করতে চায়
(৪৮/১৫)
অতএব, সাবধান হও—এইসব সন্দেহ ও ধোঁকাগুলো থেকে, যা একজন মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং বাধা দেয় এই উপলব্ধিতে পৌঁছাতে যে:
উলামা আস সূ-দের সাথে বারাআহ্ করা এবং তাদের তাকফির করা একটি শরয়ি কর্তব্য।”
ওয়াল্লহু আল মুসতাআন।[ফাতাওয়া সমাপ্ত হলো]
📕মাজমূ ফাতাওয়া আল বায়ান, ফাতাওয়া নং-১১১৫
দ্যা মুয়াওহীদ
Comments
Post a Comment