দ্যা গ্রুপ অব জ্বীন !

মানুষদের যেমন শিল্প, সাহিত্য, যুদ্ধ বিগ্রহ,পরিবার, সমাজ, আইন জীবন পরিচালনার জন্য সব ধরনের সামাজিক কাঠামো আছে। ঠিক একই ভাবে জীনদের জন্যও রয়েছে একেবারে সেইম প্রশাসন। এই জন্য উপর থেকে নাজিল হওয়া কিতাব এই পৃথিবীতে লাখ লাখ প্রজাতির প্রাণি থাকা সত্বেও এটা শুধু মানব জাতীর জন্য পাঠানো হয় নি বরং এটা আরেকটা জাতীর জন্যও পাঠানো হয়েছে- আর সেটা হচ্ছে "জ্বীন"।
.
জীনদের সিভিল  প্রসাশন বা যুদ্ধ করা ডিফেন্স প্রসাশনের চেয়ে বরং আমি কথা বলতে আগ্রহী তাদের সুপ্রিম ইন্টেলিজেন্স হেড কোয়ার্টার সম্পর্কে যারা পুরো আকাশ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের বাহিনী পাঠাতো আসমানে থাকা ফেরেস্তাদের কথা শুনার জন্য।  যাতে দুনিয়ায় কী ঘটছে এই ব্যাপারে আগাম তথ্য জানা যায়। যেই ব্যাপারে হাদিস আমাদের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। 
.
পিরামিডের দেশ মিশরের ফারাও তথা মুসা (আ) এর আমল থেকে  রাসুল (স) এর জন্ম লাভের আগ প্রযন্ত তা চালু থাকলেও রাসুল (স) এর জন্মের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এবং শুধু তাই না পুরো আকাশ প্রহরী ব্যাটালিয়ন দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। যেটা জ্বীনদের ভীত নাড়িয়ে দেয় এবং জ্বীনদের ইন্টেলিজেন্স বিভাগ মনে করে এই পৃথিবীতে অবশ্যই  এমন বিশেষ কিছু ঘটেছে যার কারনে এই অবস্থা। তাই সব গুলো গ্রুপকে আদেশ দেয়া হয় তোমরা সারা পৃথিবীতে পরিভ্রমন করো এবং দেখো হয়েছে টা কি? 
.
তখন সারা পৃথিবীতে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিনে তাদের বাহিনী ছড়িয়ে পরে যখন নাখলাহ প্রান্তরে তাদের একটি গ্রুপ উপস্থিত হয়, তখন তারা এক অভূতপূর্ন বাণী তথা কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পায় যা প্রধান ফেরেস্তা জীবরীলের মাধ্যমে নাজিল হয়েছিলো। মূসা (আ) তাওরাত (অল্ড টেস্টামেন্ট) দাউদ (আ) উপর যাবুর, ঈসা (আ) ইঞ্জিল (নিউ টেস্টামেন্ট ) এবং মুহাম্মদ (সা) এর উপর কুরআন (লাস্ট টেস্টামেন্ট) নাজিল হয়। যেই আওয়াজ যেন আসমানের ধ্বনিরই প্রতিধ্বনিত করছিলো।
.
জীনদের ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এই অভূতপূর্ন বানীর ধ্বনী শুনেই মন্তব্য করেছিলো- এই হচ্ছে তা, যা তোমাদের আসমান থেকে তথ্য নেয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়েছে। সবাই সেখানে লাস্ট টেস্টামেন্ট তথা কুরআন এর বানী শুনে অভিভূত হয়ে ইশ্বরের মনোনীত দ্বীন ইসলাম গ্রহন করে ফিরে যায় সতর্ককারী রুপে। পূর্বে তারা ডিউটিরত কর্মী থাকলেও আসমানে আল্লাহর নিদর্শন ও তিলাওয়াতের অর্থের আদেশের দরুন ইসলাম গ্রহনের মাধ্যমে  তারা সতর্ককারীরুপে ফিরে যায়।
..
কেননা তারা আল্লাহর নিদর্শন দেখেছিলো পুরো আকাশ প্রহরী দ্বারা আচ্ছাদিত থাকা দেখে তাদের মধ্যে ভয় ও এই উপলব্ধি হয়েছিলো যে, আসলে আমরা কেউই আমাদের প্রতিপালক থেকে পালাতে পারবো না। এই পৃথিবীতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালা লাখ লাখ প্রজাতীর প্রানী সৃষ্টি করেছেন তবে শুধু জীন ও মানব এই দুই শ্রেনীই প্রধান ফেরেস্তা জীবরিলের মাধ্যমে নাজিল হওয়া কিতাব মেনে চলতে সক্ষম। আর এই কিতাব শুধু মাত্র এই দুই শ্রেনীর জন্যই নাজিল করা হয়েছে।
..

Al-Jinn ৭২:১
.
.
বল, ‘আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, নিশ্চয় জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শুনেছে। অতঃপর বলেছে, ‘আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি,
.
বল, “আমাকে ওহীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, একদল জ্বিন কান পেতে (কোরআন) শুনেছে আর বলেছে, “আমরা এক বিস্ময়কর কোরআন শুনেছি, 
.
(হে রাসূল!) বলে দাও, আমার কাছে ওহী এসেছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর (নিজ সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে) বলেছে, আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি।
.
বলুনঃ আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি;
.
বলঃ আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেছে এবং বলেছে, আমরাতো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি –
.
বল, ‘‘আমার কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে (কুরআন) শুনেছে অতঃপর তারা বলেছে ‘আমরা এক অতি আশ্চর্যজনক কুরআন শুনেছি
.
১. হে রাসূল! আপনি নিজ উম্মতকে বলে দিন, আমাকে ওহীযোগে অবগত করা হয়েছে যে, নাখলা উপত্যকায় জিনদের এক দল আমার কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করেছে। অতঃপর তারা নিজেদের জাতির নিকট আগমন করে বলে: আমরা এমন বাণী শ্রবণ করেছি যা তার বর্ণনা ও সাবলীলতায় অতি চমৎকার।
.
বলুন [১], ‘আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে যে, জিনদের [২] একটি দল মনোযোগের সাথে শুনেছে [৩] অতঃপর বলেছে, ‘আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি [৪],
.
আরো বিস্তারিত জানতে...
.
https://shorturl.at/s06Cy

জ্বীনদের এই ভিন্ন ডায়মেনসনের জীবগুলোকে বর্তমানে একবিংশ শতাব্দীর কুফফারা এলিয়েন মতাদর্শ প্রচেষ্ঠার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে খুব জোরালোভাবে।
.
জ্বীনদের হাদিস গুলো সমূহ পড়লে দেখা যায় ওমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে মদিনার জ্বীনদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জিনের সাথে তার মল্লযুদ্ধ। মদিনার মধ্যে জ্বীনদের ব্যাপারগুলো ছিল একদমই স্বাভাবিক। আমাদের আবু হুরায়রা (রা) খেজুর চুরি করতে আসা জ্বীনকে হাতে না হাতে ধরেছিলেন।
.
 সাহাবীদের সাথে জ্বীনদের কথোপকথন, জ্বীনদের সাথে লেনদেন, জ্বীনদের খাবার খাওয়া, মুসলিম জ্বীনদের সাথে প্রতিবেশীদের মত ব্যবহারের চিত্রও ফুটে উঠেছে হাদিসগুলোতে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্বীনদের শিক্ষা দান সহ ওমর ইবনুল খাত্তাব খলিফা থাকাকালীন সময়ে মুসা আঃ ঈসা আলাইহিস সালাম ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর এই তিন সভ্যতায় শিক্ষালাভ করা জ্বীনের যাতায়াত ও তথ্য আদান প্রদানের ব্যাপারগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো। 
.
আব্দুল কাদের জিলানীর সাথে সাহাবা জ্বীনের সাক্ষাৎ অসম্ভব কিছু না। কুফফার জ্বীনদের পাশাপাশি কিছু সংখ্যক আমাদের প্রিয় মুসলিম ভাই জ্বীনেরাও এই পৃথিবীতে বসবাস করেন। ইবলিশ তথা লুসিফার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সেকশনে জ্বীনদের এই বিশাল গোষ্ঠীকে তার স্যাটানিক ধর্মের রুলস অনুযায়ী ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেক্টরে নামে বেনামে কুফফারদের সহযোগী হিসেবে প্রবলভাবে ব্যবহার করছে সৃস্টির সুচনালগ্ন থেকে আজ অবধি পর্যন্ত।

জ্বীন সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে জ্বীনদের উপর সকল সালাফ ও আসলাফদের রেফারেন্স ভিত্তিক কিতাব, হাদিস, আছার ও তাফসীর পড়ুন। প্রিয় মুসলিম জ্বীনদের ভালোবাসুন, তাদের জন্য দোয়া করুন, তাদের জন্য কল্যানের মানশিকতা অব্যাহত রাখুন।


Comments

Popular posts from this blog

AGI, Technological Singularity, Transhumanism

তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে.........

প্যাগান বিলিফের প্রত্যাবর্তন