সে ক্রমাগত তুলনা করতে থাকে....
যে ব্যক্তি ক্রমাগত তুলনা করতে থাকে, সে আস্তে আস্তে গোপন অহংকারের ফাঁদে পড়ে যায় এবং সেই একই পথে হাঁটতে শুরু করে, যে পথে প্রথম অবাধ্য ধ্বংস হয়েছিল।
.
এই কথাটি শুধু মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনে নানা রূপে প্রকাশ পায়। কখনো তা সরাসরি বলা হয় না, কিন্তু তা বোঝা যায়—
.
একটি ঊর্ধ্বমুখী দৃষ্টি থেকে,
.
একটি তাচ্ছিল্যের হাসি থেকে,
.
এক ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্বর থেকে,
.
এমনকি নীরবতা থেকেও যা অবজ্ঞায় ভেজা,
.
অথবা কোনো সাধারণ বাক্য থেকেও যা ভিতরে ভিতরে লুকিয়ে রাখে ঘৃণা ও তুচ্ছতাবোধ।
.
এটি বলে বসেন—
.
একজন ম্যানেজার যখন তার কর্মচারীদের ছোট করে,
.
একজন ধনী যখন গরীবকে হীনমন্যতায় ফেলে দেয়,
.
একজন ধার্মিক যখন কোনো গুনাহগারকে তুচ্ছ করে,
.
আবার কেউ তার বুদ্ধি, বংশ বা জ্ঞানের গর্বে বলে বসে।
.
বরং ধর্মের নামেও বলা হয়—যখন কেউ মনে করে যে সত্য শুধু তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, আর বাকিরা সবাই ভ্রান্ত।
.
অনেক সময় মানুষ এটিকে উপদেশ, দাওয়াত বা বিতর্কের আড়ালে লুকিয়ে রাখে। অথচ প্রকৃতপক্ষে তা হলো সরাসরি অহংকার।
.
যে এটি উচ্চারণ করে এবং অন্তরে মনে করে যে সে অন্যদের চেয়ে মর্যাদা ও অবস্থানে উচ্চতর—
.
তার সেই কথা হৃদয়ের কিবর (অহংকার), হকের বিরোধিতা এবং সৃষ্টির প্রতি অবজ্ঞার সঙ্গে জড়িত হয়।
.
সে আসলে ইবলিসের পথেই চলেছে—যদিও শব্দ ভিন্ন হতে পারে, রূপ পাল্টে যেতে পারে।
.
কিন্তু দুর্বল এক সৃষ্টি হয়ে কিভাবে সে মহান স্রষ্টার ফয়সালার ওপর আপত্তি তোলে?
.
আল্লাহ একাই সৃষ্টি করেছেন, তাকদির নির্ধারণ করেছেন, উঁচু করেছেন ও নিচু করেছেন, সম্মান দিয়েছেন ও অসম্মান দিয়েছেন।
.
তিনি-ই জানেন তার বান্দাদের জন্য কী কল্যাণকর। তার ফয়সালা জ্ঞান ও হিকমতের ভিত্তিতে। আর তার হিকমত সীমিত বুদ্ধির ঊর্ধ্বে।
.
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
{أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ}
“যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? তিনি তো সূক্ষ্মজ্ঞ ও সবকিছুর খবর রাখেন।”
.
সুতরাং, আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন, তা-ই কল্যাণ—অত:পর যদি আপনার চোখে তা সামান্য মনে হয়।
.
আর আল্লাহ যা আপনাকে দেননি, তাতেও আছে রহমত—যদিও তা বঞ্চনা বলে মনে হয়।
.
কখনো বিলম্বে থাকে আড়াল ও রহমত
বঞ্চনায় থাকে নাজাত,
অভাবেই থাকতে পারে নাজাত।
.
অতএব, মুমিন বান্দা যেন হয় রিদার দাস, তুলনার দাস নয়।
.
সে যেন নিয়ামতকে সোপান বানায়, অন্যকে তুচ্ছ করার মাপকাঠি নয়।
.
কারণ, যাকে আপনি ছোট ভেবেছেন, সে-ই আল্লাহর কাছে আপনার চেয়ে বহু উচ্চ হতে পারে।
.
আমাদের জন্য সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত হলো ইউসুফ (আঃ)।
.
তিনি ছিলেন জ্ঞানী, চরিত্রবান ও মর্যাদাবান।
.
কিন্তু মিশরের বাদশাহর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেননি— আমি অমুকের চেয়ে ভালো।
.
তিনি অন্যকে ছোট করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করেননি।
.
বরং দায়িত্বের প্রতি আস্থাশীল এক মানুষের ভাষায় বলেছিলেন—
.
﴿اجعلني على خزائن الأرض إني حفيظ عليم
.
“আমাকে দেশের ভান্ডারের দায়িত্ব দাও; নিশ্চয়ই আমি সংরক্ষক ও জ্ঞানবান।”
.
"আজকের জুমার খুতবা"
"মাসজিদ আন নাবায়ী"
Comments
Post a Comment