সুডোসাইন্সের ইতিহাস (১ম পর্ব)


আমি আপনাদের নিকট যা উপস্থাপন করতে যাচ্ছি তা হলো সুডোসাইন্সের ইতিহাস, দলীলাদিসহ। এর মাধ্যমে আপনাদের নিকট ইনশাআল্লাহ সত্য উপস্থাপন করতে পারবো।
.
.
সুডোসাইন্সের ইতিহাস লেখা অবশ্যই অনেক কষ্টসাধ্য। তবে ব্যাপারটি সহজ করার জন্য আমি বিষয়টি ধাপে ধাপে তুলে ধরবো যাতে কোনো বক্রতা না থাকে। আমি পুরো ইতিহাসকে সংক্ষিপ্তভাবে ধাপে ধাপে তুলে ধরবো। ধাপগুলো হলো,
.
১/ সুডোসাইন্সের প্রাচীনরূপ ও এর মুলভিত্তি এবং ক্রমবিকাশ।
.
২/ সুডোসাইন্সের আধুনিকায়ন।
.
৩/ বর্তমান অবস্থা।
.
.
এ পর্বে আমি প্রথমটি তুলে ধরছি।
.
.
.
আজকে আমরা যাকে বিজ্ঞান বলে জানি অতীতে বিজ্ঞান বলতে ঠিক তা বুঝানো হতো না। অতীতে সাইন্স বলে আলাদা কোনো টার্ম ছিল না। যা ছিল সেটা হচ্ছে ন্যাচারাল ফিলোসফি। কী এই ন্যাচারাল ফিলোসফি?
.
.
এর সুনির্দিষ্ট সুচনা হয় অ্যারিস্টটল দ্বারা, উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত। এর পর থেকে ন্যাচারাল ফিলোসফির আলাদা ভাগ হয়ে যায়। সে সময় থেকে এটি আধুনিক আকার ধারণ করে। যেমন, ফিজিক্স, বায়োলজি, কৃষি ইত্যাদি হলো NP(natural philosophy) এর প্রকারভেদ। (i)
.
ফ্রান্সিস বেকন বলেছে, “there ought to be one science of natural philosophy which treats everything common to natural things and this will be the first among the natural sciences. But there will be other great natural sciences many of which have subalternate sciences, just as is obvious in metaphysics.”
.
.
সে আরো বলেছে যে, “besides the science common to natural things there are seven special sciences, namely Perspective; Astronomy, [both] judicial [i.e., astrology] and operative [i.e. astronomy proper]; The Science of Weights of heavy and light bodies; Alchemy; Agriculture; Medicine; [and] Experimental Science.” (ii)
.
.
এই বিষয়ে পরবর্তীতে আরো আলোচনা আসবে ইনশাআল্লাহ। এখন এটা আনলাম কারণ এটা বুঝানো যে NP এর মডার্ন ভার্সন হলো আজকের সুডোসাইন্স।
ইতিহাসে যে বড় দুটি সভ্যতাতে এর বিকাশ ঘটেছে সেগুলো হলো মিশরীয় সভ্যতা ও মেসোপটেমীয় সভ্যতা। পাশাপাশি গ্রিক সভ্যতাও। মিশরীয় সভ্যতায় NP আর যাদুর মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। (iii)
.
একই ব্যাপার মেসোপটেমীয় সভ্যতাতেও। (iv)
.
মেসোপটেমীয় সভ্যতায় চিকিৎসা হিসেবে যাদুমন্ত্র দেওয়া হতো(v)
.
শয়তানী জ্ঞানে সমৃদ্ধি ব্যাবিলনই হয়ে ওঠে পরবর্তীতে ন্যাচারাল ফিলোসফার তথা যাদুকরদের বিদ্যাপীঠ। বহু গ্রিক ফিলোসফার ব্যাবিলন ও মিশর থেকে শয়তানী জ্ঞান আহরণ করে নিয়ে আসতো, আর সবাই তাই মনে করতো বিশাল জ্ঞান! তাদের হাতেই হেলিওসেন্ট্রিজম কাল্টের সূচনা হয়। গ্রিক ফিলোসফারগণের অপবিদ্যার শিকড় যে ব্যাবিলনের শয়তানের আবৃত্ত জ্ঞান তা পরবর্তীতে আপনাদেরকে ইনশাআল্লাহ দেখানো হবে। আর সেই গ্রিসই হয়ে ওঠে (অপ)বিজ্ঞানের শিকড়। যা আগে ন্যাচারাল ফিলোসফি নামে পরিচিত ছিল, পরবর্তীতে তা হয়ে ওঠে মডার্ন সাইন্স( আসলে সুডোসাইন্স)।
.
.
মানবজাতির প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকেই শয়তান সমাজে যাদুবিদ্যার প্রচলন ঘটিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সুলায়মান(আ) এর সময়ে এই অপবিদ্যার প্রচলন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। সুলায়মান(আ) যাদুবিদ্যার কিতাবগুলো সংগ্রহ করে নিজ সিংহাসনে পুতে রাখেন। পরবর্তীতে উনার মৃত্যুর পর আবার শয়তান ও যাদুকররা তা সংগ্রহ করে এবং অপবাদ দেয় যে সুলায়মান(আ) নাকি যাদুর জেরে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন! নাউজুবিল্লাহ!
.
.
.
আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন,
.
”তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত।..."(সুরা বাকারাহ,১০২)।
.
.
.
এভাবেই ব্যাবিলন হয়ে ওঠে অপবিদ্যার বিদ্যাপীঠ। আর এসব নিষিদ্ধ জ্ঞানকেই আজকে গণিতের মোড়কে সামনে আনা হচ্ছে। আজকের (অপ)বিজ্ঞানের দাবীগুলো তৎকালীন যাদুকরদের আকিদারই মডার্ন ভার্সন। শয়তান ইয়াহুদীদের মাঝে অপবিদ্যা প্রবেশ করাতে পেরেছে, কাব্বালাহ।
.
.
এসবের রুট ঐ ব্যাবিলনই। কাব্বালার দাবী হলো সবকিছুই সংখ্যা। পিথাগোরাসের কথাটা মনে আছে? Everything is number.। হ্যা, বাবেল শহরের যাদুকরদের আকিদা আর পিথাগোরাস সাহেবের আকিদাতে তো সাদৃশ্য থাকবেই।
.
.
.
মুলত ব্যাবিলন থেকে গ্রিসে অপবিদ্যার প্রবেশ ঘটে। En Kasak বলেছে,''...astrology moved from Mesopotamia to Greece without any great changes. ...''(vi)
.
.
.
ব্যাবিলনিয়ান যাদুকররা তাদের যাদুজ্ঞান লিখে রেখেছিল। যা পরবর্তীতে গ্রিক ফিলোসফির উন্নয়নে কাজে আসে। (vii)
.
.
Edward Grant লিখেছে, “What they began and developed would become a legacy for the Greeks, who arrived on the scene long after their Egyptian and Mesopotamian predecessors.(viii)
.
.
.
 ৬০০-৪০০ খ্রিস্টপুর্বাব্দ প্রি-সক্রেটিক পিরিয়ড নামে পরিচিত। সে সময়কার ফিলোসফারদের কর্মের খুব কমই আজ অবশিষ্ট আছে। যেমন, গ্রিসের মিলেটাস শহরের থেলেস, অ্যানাক্সিমেনেস, অ্যানাক্সিম্যান্ডার। এরা সামগ্রিকভাবে মিলেশিয়ানস নামে পরিচিত। এই মিলেশিয়ানসদের অপজ্ঞানের সোর্স ছিল সেই ব্যাবিলনই।
পরবর্তীতে গ্রিসের অপজ্ঞান আরবে স্থানান্তরিত হয়। অ্যারিস্টটলের কর্মের নিওপ্লেটোনিক ব্যাখ্যা পুর্বদিকে প্রবেশ করে। অনুবাদের মাধ্যমে সিরিয়া ও পারস্যে। গ্রিক ভাষা থেকে সিরীয় ভাষায় অনুবাদ করা হয়। পরবর্তীতে সিরীয় ভাষা থেকে আরবীতে। তবে সরাসরী গ্রিক থেকে আরবীতেও অনুবাদ হয়েছে। (ix)
.
.
.
অনুবাদের সুচনাঃ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে নেস্টোরিয়ান আর মনোফিজিসাইট নামক দুটি খ্রিস্টান ফেরকার মধ্যে আকিদাগত বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের নিকট অ্যারিস্টটলের যুক্তির বইগুলো অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। উত্তর মেসোপটেমিয়ার এডেসা নামক অঞ্চলে ও পারস্যের নিসিবিস নামক অঞ্চলের নেস্টোরিয়ান স্কুলগুলোতে অ্যারিস্টটলের বেশ কিছু যুক্তির বই অনবাদ করা হয়। যেমন, “Categories“, “On Interpretation“, এবং সম্ভবত “Prior Analytics” প্রভৃতি। এসব গ্রিক ভাষা থেকে সিরীয় ভাষায় অনুবাদ করা হয়। নেস্টোরিয়ানগণ জুন্ডিশাপুর নামক অঞ্চলে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র গড়ে তুলে। সেখানে গ্রিক ভাষা থেকে সিরীয় ভাষায় অনুবাদ করার কাজ হতো এবং কিছু বই সরাসরী সিরীয় ভাষাতেই লিখিত হয়েছিলো। (x)
.
.
নেস্টোরিয়ানগণের পাশাপাশি মনোফিজিসাইটগণও থেমে থাকেনি। তারা গ্রিসের অপজ্ঞানকে গ্রিস ভাষা থেকে সিরীয় ভাষায় অনুবাদ করতে লাগলো। তারা অ্যারিস্টটলের যুক্তিমুলক বইয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু চিকিৎসার বইও তারা অনুবাদ করে। সপ্তম শতকে, সেভেরাস সেবেখত নামক এক মনোফিজিসাইটিস্ট পুরোহিত ও পদার্থবিজ্ঞানী বেশ কিছু যুক্তিমুলক ও জ্যোতির্বিদ্যার বই অনুবাদ করে। সম্ভবত টলেমীর Almagest ও। (xi)
.
.
 হারুন অর রশিদের আমলে অনুবাদঃ খলিফা হারুনের আমলে অনুবাদ কর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখেন খলিফার মন্ত্রী জাফর ইবন বারমাক। তিনি গ্রিসের অপজ্ঞানকে আরবে পরিচিত করার জন্য শপথ নেন। এজন্য তিনি জুন্ডিশাপুর থেকে বেশ কয়েকজন নেস্টোরিয়ান অনুবাদককে বাগদাদে আসার জন্য প্ররোচিত করেন। এভাবেই গ্রিক অপজ্ঞান এডেসা ও নিসিবিস থেকে জুন্ডিশাপুর হয়ে বাগদাদে প্রবেশ করে। (xii)
.
.
 বাইত আল হিকমাহতেই গ্রিক থেকে আরবী ভাষাতে অনুবাদ করা বইগুলো স্থান পায়।(xiii)
.
.
অ্যারিস্টোটলিয়ান অনুবাদকর্মের শেষঃ বাগদাদে ৯০০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে অনুবাদকর্মের সমাপ্তি ঘটে। এই সময়ে সাধারণত পুর্ববতীদের অনুবাদগুলোই পুনরায় নতুন করে অনুবাদ করা হয়।(xiv) এসব অনুবাদকদের মধ্যে যারা ছিলেন- Abu Uthman al-Dimashqı, Qusta b.Luqa, Abu Bishr Matta b.Yunus (d. ad 940) এবং তার ছাত্ররা, Abu Zakariya Yahya b.Adı, Abu AlıIsa b.Ishaq b. Zurah(942–1008), al-Hasan b. Suwar, যিনি Ibn al-Khammar (942–1017) নামেও পরিচিত, এবং Abul-Faraj Abdullah b. al-Tayyib (d. 1043)। (xv)
.
এসবের পর অবশেষে অ্যারিস্টটলের লজিক, মেটাফিজিক্স আর ন্যাচারাল ফিলোসফির প্রায় সকল বই আরবীতে চলে আসে।(xvi)
.
.
.
তিনটি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্প্রদায়ঃ তৎকালীন মুসলিম বিশ্বে গ্রিসের অপজ্ঞান প্রসারের ফলে তিনটি আলাদা চিন্তাধারার সম্প্রদায় গড়ে ওঠে।
.
(ক) যারা একেবারে ইসলামপন্থী। এদের মধ্যে হক্বপন্থী আলিমগণ ছিলেন। এনারা গ্রিসের অপজ্ঞানের বিরুদ্ধে কুরআন সুন্নাহ দ্বারা আক্রমণ করেন এবং তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এনারা গ্রিক দর্শনের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
.
(খ) এই সম্প্রদায় গ্রিক অপজ্ঞানকেই জ্ঞানের আধার বলে মনে করতে থাকে। এনারা গ্রিক দর্শন দ্বারা ইসলামকে বিচার করতে থাকে। এরা মুতাজিলা নামে পরিচিত।
.
(গ) এই সম্প্রদায় কিছুটা গ্রিক দর্শন দ্বারা প্রভাবিত ছিল। বিশেষ করে অ্যারিস্টটলের। এ সত্ত্বেও তারা ইসলামকে এই অপজ্ঞান দ্বারা বিচার করতো না। (xvii)
.
.
.
বর্তমানে ’খ’ ও ’গ’ সম্প্রদায়ের মতো মানুষের অভাব নেই। তবে 'ক’ এর মতো মানুষ প্রায় নেই বললেই চলে।
.
এভাবেই ধীরে ধীরে আরব অপজ্ঞানকে লালনপালন করতে থাকে। ইউরোপ যখন এসব ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলো, তখন আরবরা অপজ্ঞান চর্চার শীর্ষে অবস্থান করছে। আরবদের অপজ্ঞান চর্চা প্রায় ১৩শ শতাব্দী পর্যন্ত চলে যা আধুনিক সুডোসাইন্সের ভিত্তি গড়ে দেয়। (xviii)
.
.
.
 আপনি যা পড়লেন তা হলো বাস্তবতা। আমি যা বলেছি তা সবই প্রমাণিত। তা আপনি নিজের চোখেই দেখতে পারছেন। এখন আমি আপনাকে পুরো আর্টিকেলের সারাংশ তুলে ধরছি।
.
.
.
সারাংশঃ 
.
“সে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদেরকে আশ্বাস দেয়। শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সব প্রতারণা বৈ নয়।“(সুরা নিসা, ১২০)।
.
শয়তান কী বলেছিলো মনে আছে যখন সে অভিশপ্ত হয়েছিলো? “সে বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। এরপর তাদের কাছে আসবো তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।“ (সুরা আরাফ, ১৬-১৭)।
.
হ্যা, আল্লাহ আমাদেরকে সত্য জানিয়েছেন। আপনার কী ধারণা শয়তান শুধু আপনাকে মিথ্যা কথা, ব্যভিচারের দিকে আহ্বানই জানাবে? অথবা সালাত কাযা করাবে? হ্যা, তা তো সে করবেই। কিন্তু তার পরিকল্পনা আরো ভয়ঙ্কর। সে সত্যকে মিথ্যাকে দিয়ে ঢেকে দিবে স্তরে স্তরে। আপনি অনেক গবেষণা করে মনে করলেন যে আপনি সত্য পথে আছেন। কিন্তু ভুল। আপনি যাকে সত্য মনে করছেন তা হলো শয়তাননির্মিত আরেক মিথ্যা।
.
.
.
সভ্যতার সুচনা থেকেই শয়তান তার কার্যসিদ্ধি করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এখনো চালাচ্ছে। প্রাচীনকাল থেকেই শয়তান তার অনুসারীদের অপজ্ঞান সরবরাহ করে আসছে। সত্য ও মিথ্যা মিশিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় সে গড়ে তুলে মিথ্যা কসমোলজি। যা কুফর ও শিরকে ভরপুর। এছাড়াও সে মানুষকে নিষিদ্ধ জ্ঞান যাদুশাস্ত্র শিক্ষা দিতে লাগলো। ধীরে ধীরে তা প্রকট আকার ধারণ করলো।
.
.
.
তখন সুলায়মান(আ) এর শাসনামল। যাদুবিদ্যা প্রকট আকার ধারণ করায় সুলায়মান(আ) যাদুশাস্ত্রের কিতাবগুলো গুম করে ফেলেন। উনার মৃত্যুর পর শয়তান ও যাদুকররা তা পুনরুদ্ধার করে এবং বলতে থাকে যে তিনি নাকি যাদুর জোরে শাসন চালিয়েছেন! নাউজুবিল্লাহ। তারা মিথ্যুক। সুলায়মান(আ) কুফরী করেননি।
.
 আল্লাহ বলেন, 
 “তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করতো। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিলো। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিলো, তা শিক্ষা দিতো। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারতো না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালোরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানতো।“(২ঃ১০২)।
.
.
.
তারা শয়তান আবৃত্ত জ্ঞান শিক্ষা দিতো। এভাবেই ব্যাবিলন হয়ে ওঠে অপবিদ্যার বিদ্যাপীঠ।
.
.
শয়তান বলেই দিয়েছে যে, “...আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো।...“। হ্যা, শয়তানের স্বভাবই হলো সিরাতুল মুস্তাকিমের বিপরীতে যাওয়া। ইসলাম বলে তাওহিদের কথা, সে বলে বহুঈশ্বর। আল্লাহর সাথে কোনো কিছুই তুল্য নয়। কোনো কিছু তাঁর সদৃশ নয়। সে বলে ইত্তেহাদের কথা। সে বলে ওয়াহদাতুল উজুদের কথা।
.
.
শয়তান এখানেই ক্ষান্ত হয়নি। সে ব্যাবিলনের অপবিদ্যাকেই মানুষের নিকট উপকারী বলে দেখাতে লাগলো। গ্রিসের ন্যাচারাল ফিলোসফারগণ ব্যাবিলন থেকে অপজ্ঞান নিয়ে এসে তা গ্রিসে প্রচার করে। জাহেলগণ যাকে উপকারী জ্ঞান বলে মনে করেছিলো। ধীরে ধীরে গ্রিস শয়তান আবৃত্ত জ্ঞানে ভরে ওঠে। তারপর এক সময় তা আরবে প্রবেশ করে। অনুবাদ শুরু হয় দুই খ্রিস্টান ফেরকা দ্বারা। এক সময় তৎকালীন খলিফাও তা অনুবাদ করাকে সমর্থন শুরু করেন। এভাবেই আরবেও অপজ্ঞানের প্রসার ঘটে। তখনো ইউরোপে এগুলো প্রবেশ করেনি।
.
 মুসলিম শাসনামলে প্রবেশ করে। তবে কোনো এক কারণে পরবর্তীতে আরবরা এসব চর্চা করা ছেড়ে দেয়। তবে ইউরোপ ছাড়েনি। ফ্রিমেসনিস্ট নিউটন, গ্যালিলিওসহ আরো অনেকেই এই অপজ্ঞান বহন করেছে, যা প্রচারে সহায়তা করে রয়্যাল সোসাইটি, তারাও ফ্রিমেসনিস্ট। কিন্তু আরবরাই ইউরোপের জন্য ভীত তৈরি করে দেয় যার ফলে ইউরোপ এতো এগুতে পেরেছে। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে ইউরোপ যখন এসব ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলো, তখন আরবরা অপজ্ঞান চর্চার শীর্ষে অবস্থান করছে। আরবদের অপজ্ঞান চর্চা প্রায় ১৩শ শতাব্দী পর্যন্ত চলে যা আধুনিক সুডোসাইন্সের ভিত্তি গড়ে দেয়।ইউরোপ অপজ্ঞানকে এগিয়ে নিতে থাকে। তার উদরেই জন্ম হয় আইনস্টাইন, ম্যাক্স প্লাংকের মতো সুডোসাইন্টিস্ট।
.
.
সেই শুরু ব্যাবিলন থেকে। গড়ে উঠলো ইয়াহুদীদের যাদুশাস্ত্র কাব্বালাহ।
.
 ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লো পুরো পৃথিবীতে। অবশেষে একুশ শতকে এসে অপবিজ্ঞানীরা নিজ মুখে স্বীকার করেছে যে বর্তমান অ্যাস্ট্রোনমি, কসমোলজি কাব্বালাহরই প্রতিফলন। শুনুন প্রখ্যাত মিচিও কাকুসহ আরো অনেকের মুখ থেকে।-https://www.youtube.com/watch?v=tuKwz0MEawI
.
তারা কেন এরকম করছে?
.
.
.
তারা শয়তান কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত, স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায়, প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে। তারা দাজ্জালের আগমনের স্টেজ তৈরি করছে। বর্তমান সুডোসাইন্স সেদিকেই যাচ্ছে। সেই সাইন্স আজ পুরোটাই প্যান্থেইস্টিক। সেই সাইন্স আজ স্পেসের মতো স্পিরিচুয়াল বিষয়টাও নর্মালাইজ করেছে। শয়তানদেরকে আনছে এলিয়েন মোড়কে। মানবপূজাকে এনেছে ডেমোক্রেসি/কমিউনিজম নামে।
.
 “যারা ঈমানদার তারা যে, জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।“ (সুরা নিসা, ৭৬)।
বস্তুত, কাফিররা যা করছে খুবই মন্দ। যদি তারা জানতো!
.
.
.
 “যখন সব কাজের ফায়সালা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবেঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছি, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোন ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু এতটুকু যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছি, অতঃপর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছ। অতএব তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না এবং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা করো। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই। এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও। ইতোপূর্বে তোমরা আমাকে যে আল্লাহর শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করি। নিশ্চয় যারা জালেম তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।“(সুরা ইবরাহিম,২২)।
.
.
অনেক কথা বললাম। জানি না এতোকিছু পড়ার ধৈর্য্য আপনার আছে কিনা। যদি পুরোটা পড়ে থাকেন তবে অবশ্যই আপনি প্রশংসার যোগ্য।
.
.
.
পরিশেষে কিছু কথাঃ শুনুন! আল্লাহর প্রদত্ত জ্ঞান ব্যতীত কোনো কিছুরই ভরসা নেই! আমাদের প্রতিপালকের প্রতিটি কথা সত্য। তিনি আমাদেরকে শয়তানেরর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আর আমরা?
.
.
“হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো এবং ভয় করো এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে।“ (সুরা লুকমান,৩৩)।
.
.
.
.
.
reference:
.
(i)”From Natural Philosophy to the Sciences: Writing the History of Nineteenth-Century Science,” Cahan David.
.
.
(ii)“Communia Naturalium,” Francis Bacon.
.
.
(iii)Marshall Clagett, "Ancient Egyptian Science: A Source Book."
.
.
(iv)Farber, Walter. "Witchcraft, Magic, and Divination in Ancient Mesopotamia"
.
.
(v)McIntosh, Jane R.. “Ancient Mesopotamia: New Perspectives."
.
.
(vi) En Kasak, ”Ancient astrology as a common root for science and pseudoscience.“
.
.
(vii)O. Neugebauer, ”The Exact Sciences in Antiquity.”
.
.
(viii)Edward Grant, “A history of natural philosophy, from the ancient world to nineteeth century.“
.
.
(ix)A. A. Vasiliev, “History of the Byzantine Empire.“
.
.
(x)O’Leary, “How Greek Science Passed to the Arabs.“
F. E.Peters, “Aristotle and the Arabs:the Aristotelian tradition in Islam.“
Marshall Clagett, “Greek Science in Antiquity.“
David C. Lindberg, “The Beginnings of Western Science.“
.
.
(xi)Clagett, “Greek Science in Antiquity.“
.
.
(xii)O’Leary, “How Greek Science Passed to the Arabs.“
.
.
(xiii)Peters, “Aristotle and the Arabs.“
.
.
(xiv)Peters, “Aristotle and the Arabs.”
.
.
(xv)Goodman, “The Translation of Greek Materials into Arabic.”
.
.
(xvi) Walzer, “Aristutalis.“.
.
.
(xvii)Toby Huff, ”The Rise of Early Modern Science।“
.
.
(xviii) (http://www.astronomy.com/news/2017/02/muslim-contributions-to-astronomy) (বেস্ট সেলার astronomy magazine)
.
9
(xix) https://shorturl.at/jHSY0

লেখা ; লোন মাস্টারমাইন্ড 

(আল্লাহ তাকে দ্বীনে (লাইট)  ফিরিয়ে আনুন )

Comments

Popular posts from this blog

AGI, Technological Singularity, Transhumanism

তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে.........

প্যাগান বিলিফের প্রত্যাবর্তন