ইসলামী গনতন্ত্র
সত্য স্পষ্ট, মিথ্যাও স্পষ্ট; এ দুয়ের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী কিছু নেই। তোমাকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে শুধুমাত্র আল্লাহর দ্বীন মেনে চলার জন্য। স্বেচ্ছায় তুমি তার কাছে আত্মসমর্পণ করবে। এখানে তোমার কিছু করার নেই। তুমি হচ্ছো দাস, গোলাম, মনিবের আজ্ঞাবহ কর্মচারী মাত্র।
.
আমরা গণতন্ত্র মানি না। আমরা ইসলামী গণতন্ত্র মানি। হয় তুমি বেশ্যা আর না হয় তুমি মুসলিম। "ইসলামিক অথবা "ধার্মিক বেশ্যা" বলে কোনো শব্দ নেই। হয় তুমি কাফের, আর না হয় তুমি মুসলিম। আমি কাফের না। আমি ওদের মতো কাফের নই, বরং আমি "ইসলামিক কাফের"! ইসলামিক কুফফার নামে শরিয়াহয় কোনো টার্ম বা পরিভাষা নেই। হয় তুমি দ্বীন মানো, আর না হয় তুমি ধর্মনিরপেক্ষতার (সেকুলার) দিকে ধাবিত হও! ইসলাম তোমার ফাইজলামী করার রিলিজন না এবং এটাকে তোমার ফাইজলামী/খেয়ালখুশীর মতো চালানোর জন্য অবতীর্ণ করা হয় নি।
.
অনেক কুকুর আছে, যারা নানা রকম যুক্তি দিয়ে তোমাকে অনেক কিছু বুঝাতে চাইবে। যেমন: এই দেশ “দারুল আমান”। এটি "দারুল কুফর" নয়।
.
দারুল আমান মানে দারুল ইসলাম বা ইসলামিক রাষ্ট্র বা ইসলামিক স্টেট, যার সাথে অমুসলিম গোষ্ঠী/অইসলামিক রাষ্ট্র চুক্তি বা জিজিয়া (কর) দেয়ার মাধ্যমে সেই ইসলামিক রাষ্ট্র বা স্টেট থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছে। তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তাকে দারুল আমান বলা হয়, যেখানে অমুসলিমরা নিরাপত্তা ও কিছু অধিকার পায়।
.
এখন তোমার এই দেশ "দারুল হারব" কিভাবে দারুল আমান হলো? কোন ইসলামিক রাষ্ট্রের অধীনে সে জিজিয়া দেয়ার বিনিময়ে নিরাপত্তা লাভ করে দারুল আমান হয়েছে? কিসের ভিত্তিতে সে আল্লাহর দেওয়া সত্য শরিয়াহকে এডিট করে বুজুর্গি দেখালো? সে তার স্ত্রী নিয়ে তাহাজ্জুদ পড়ত; তার তো দরকার ছিল না এই ব্যাপারে নিজেকে জড়ানো। [“আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন।” (সূরা আত-তালাক, ৬৫:২-৩)] তুমি অনেক রাস্তা পেয়ে যাবে নিজেকে ঠিক রেখে কথা বলার মতো, অথবা (সেইফ জোন)।
.
সূরা আত-তাওবা, আয়াত ৩১:
.
আরবি: اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ
.
অনুবাদ: “তারা তাদের আলেম ও দরবেশদের আল্লাহ ছাড়া রব বানিয়ে নিয়েছে…”
.
এই আয়াত শুনে সাহাবী আদি ইবনে হাতিম (রাঃ) প্রশ্ন করেছিলেন।
.
হাদিস: সুনান আত-তিরমিজি
হাদিস নম্বর: ৩০৯৫ (হাসান)
.
আদি ইবনে হাতিম (রাঃ) বলেন:
আমি বললাম: “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা তো তাদের রব/ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করি নি। আমরা তো তাদের ইবাদত করতাম না!”
.
নবী ﷺ বললেন: “তারা কি আল্লাহ যা হালাল করেছিলেন তা হারাম করত না, আর আল্লাহ যা হারাম করেছিলেন তা হালাল করত না—আর তোমরা কি তা মেনে নিতে না?”
.
আমি বললাম: “হ্যাঁ! তা তো করতাম।”
.
রাসূল ﷺ বললেন: “এটাই হচ্ছে, তাদেরকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়া। ও তাদের ইবাদত করা।”
.
(হাদিসটি সহিহ/হাসান; তিরমিজি, তাফসির সূরা তাওবা)
.
আপনি কি মনে করেন? তাদের বুঝাইলে তারা বুঝবে? মাথায় কি সমস্যা আছে? আপনি এখনো উলামাদের চিনেনই নাই। এই এডিট তারা করে সত্যকে জেনে ও ভালোভাবে বুঝে নেয়ার পর।
.
সূরা আল-বাকারা — আয়াত ৭৫:
.
আরবি: أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُوا۟ لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌۭ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَـٰمَ ٱللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُۥ مِنۢ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
.
বাংলা অর্থ: “তোমরা কি আশা করো যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? অথচ তাদের একদল আল্লাহর কালাম শুনত, তারপর ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার পরও জেনে-বুঝেই তা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন-বিকৃত করেছে।”
.
>জেনেছে, বুঝেছে (عَقَلُوهُ), তারপরও ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করেছে (يُحَرِّفُونَهُ)।
.
একজন জাহিল মুসলিমের জন্য বা এমন মুসলমান যে মানুষকে কুফরের দিকে ডাকে, হয়তো অজ্ঞতাবশত সরাসরি বিদআত করে এবং বিদআতকে সমর্থন করে, তার জন্য প্রকাশ্যে মায়াকান্না করা মানে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তার মানহাজকে সঠিক হিসেবে উপস্থাপন করা।
.
ইসলাম ছাড়া যত মতবাদ আছে, তা বর্জনীয়, পরিত্যাজ্য, অগ্রহণযোগ্য। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত দ্বীন হলো “ইসলাম”। ইসলাম নিজেই নিজের পরিচয়ের স্বকীয়তা ধরে রাখে। এর জন্য অন্য কিছুর সাথে যুক্ত হয়ে তা পূর্ণতা/পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কমিউনিজমের আগে ইসলামিক টার্ম যুক্ত করলে সেটা “ইসলামিক কমিউনিজম” হয়ে হালাল হয়ে যায় না। অথবা কুফরের মধ্যে ইসলামিক কালার যুক্ত করলে সেটা কুফুরই থাকে। দ্বীন ও কুফুর পরস্পর আলাদা। পাশ্চাত্যের “বিকিনি স্টেট”-এর সাথে ইসলামের কালার যুক্ত করে ইসলামিক বিকিনি টার্ম আমদানির কোনো মানে হয় না। এটা আরেক জাহিলিয়াত আমদানিরই নামান্তর। অনুরূপভাবে, ট্রান্সজেন্ডার মতবাদকে ইসলামিক ফ্লেভারের প্রলেপ দিয়ে ইসলামিক ট্রান্সজেন্ডার বানাতেও হয়তো এরা কুণ্ঠাবোধ করবে না।
.
এই দ্বীন আপোষহীন। এটা আপোষহীন দ্বীন। এটা একক, অনন্য এবং অন্য সব মতবাদ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্য, মেজাজ, মানহাজ, আদর্শ, স্বকীয়তা, নিজস্বতা, সৌন্দর্য বহন করে। এটা কারো সাথে খাপ খাওয়ানোর (এডজাস্ট হওয়ার) মানসিকতার বহনের বৈধতা দেয় না।
.
অতএব, হয় দ্বীন ইসলাম, আর নয় গুমরাহি (পথভ্রষ্টতা)।
.
(গণতন্ত্র (Democracy), উদার গণতন্ত্র (Liberal Democracy), ইসলামিক গনতন্ত্র ( islamic Democracy) স্বৈরতন্ত্র (Autocracy), একনায়কতন্ত্র (Dictatorship), সামরিক শাসন (Military Junta / Military Rule), রাজতন্ত্র (Monarchy), ফ্যাসিবাদ (Fascism), নাৎসিবাদ (Nazism), নৈরাজ্যবাদ (Anarchism), ফেডারেলিজম (Federalism), জাতীয়তাবাদ (Nationalism), উগ্র জাতীয়তাবাদ (Ultranationalism), প্যান-ন্যাশনালিজম (Pan-Nationalism), উপনিবেশবাদ (Colonialism), সাম্রাজ্যবাদ (Imperialism), পপুলিজম (Populism)।
.
পুঁজিবাদ (Capitalism), সমাজতন্ত্র (Socialism), কমিউনিজম (Communism), মার্কসবাদ (Marxism), লেনিনবাদ (Leninism), মাওবাদ (Maoism), স্টালিনবাদ (Stalinism), ট্রটস্কিবাদ (Trotskyism), কল্যাণ রাষ্ট্র (Welfare State), নব্য উদারনীতি (Neoliberalism), কেইনসবাদ (Keynesianism), মেরক্যান্টিলিজম (Mercantilism), রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ (State Capitalism)।
.
ফেমিনিজম (Feminism), উদার ফেমিনিজম (Liberal Feminism), র্যাডিকাল ফেমিনিজম (Radical Feminism), জেন্ডার মতবাদ (Gender Ideology), মানবতাবাদ (Humanism), ধর্মনিরপেক্ষতা / ধর্ম নিরপেক্ষতা (Secularism), নাস্তিকবাদ (Atheism), অজ্ঞেয়বাদ (Agnosticism), বহুসংস্কৃতিবাদ (Multiculturalism), প্রগতিবাদ (Progressivism), রক্ষণশীলতা (Conservatism), উত্তর-আধুনিকতাবাদ (Postmodernism), লিঙ্গ নিরপেক্ষতা মতবাদ (Gender Neutrality Ideology), এলজিবিটিকিউ মতবাদ (LGBTQ+ Ideology)।
.
ধর্মতন্ত্র (Theocracy), খ্রিস্টীয় ধর্মতন্ত্র (Christian Theocracy), ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদ (Secular Humanism), বস্তুবাদ (Materialism), আদর্শবাদ (Idealism), বাস্তববাদ (Realism), অস্তিত্ববাদ (Existentialism), প্রকৃতিবাদ (Naturalism), যুক্তিবাদ (Rationalism)।
.
টেকনোক্রেসি (Technocracy), ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ (Digital Authoritarianism), উত্তর-ঔপনিবেশিকতাবাদ (Post-Colonialism), ট্রান্সহিউম্যানিজম (Transhumanism), পরিবেশ-সমাজতন্ত্র (Eco-Socialism), পরিবেশ-ফ্যাসিবাদ (Eco-Fascism), সাইবার উদারবাদ (Cyber Libertarianism)।
.
প্রখ্যাত আলিমগণের বক্তব্য:
.
ইয়েমেনের মুজাদ্দিদ শাইখ মুকবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“গণতন্ত্র মহামহিম আল্লাহর প্রতি প্রকাশ্য কুফর। যে ব্যক্তি এর প্রতি আহ্বান জানায় অথবা এটাকে সমর্থন কিংবা ডিফেন্ড করে—সে কাফের; যদিও সে সালাত আদায় করে, সওম রাখে এবং নিজেকে মুমিন দাবি করে।”
[ক্বাম উল-মু'আনিদ ওয়া যাজরুল হাক্বীদিল-হাসিদ: ২২]
.
আল-আল্লামাহ ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) (সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি) বলেন:
“যে ব্যক্তি সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম বা অন্য কোনো ধ্বংসাত্মক মতাদর্শের প্রতি আহ্বান জানায় যা ইসলামী শরিয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক, তবে সে একজন পথভ্রষ্ট কাফির, যে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের চাইতেও বড় কাফির। এছাড়া যে ব্যক্তি তাদের গুমরাহীতে সাহায্য করে, তারা যে বিষয়ে আহ্বান করে তার প্রশংসা করে এবং ইসলামের দাওয়াহ প্রদানকারীদের অপবাদ দেয়, তাদের মানহানি করে, সেও একজন পথভ্রষ্ট কাফির যার বিধান হচ্ছে নাস্তিকদের বিধানের মতো..!”
[মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ : ১/২৬৯]
.
শাইখ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আলে আশ-শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“গণতন্ত্রের পদ্ধতি আধুনিক যুগের শিরকের একটি রূপ, কারণ এতে আইন প্রণয়নের অধিকার আল্লাহর পরিবর্তে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
[তাহযিরুল উকালা’ মিন মাজালিমিদ-দিমুকরাতিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৭]
.
শাইখ আব্দুল আযীয ইবনে বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসলামের পদ্ধতি হলো আহলি হাল্লি ওয়াল আকদ শূরাভিত্তিক, গণতন্ত্রভিত্তিক নয়।”
[মাজমূ’ ফাতাওয়া ইবনে বায, খণ্ড ৯]
.
শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“গণতন্ত্র মানে হলো—মানুষের দ্বারা, মানুষের জন্য, মানুষের শাসন। আর ইসলাম হলো—মানুষের জন্য, তাদের সৃষ্টিকর্তার শাসন।”
[সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর (অডিও সংকলন)]
.
শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:
“গণতন্ত্র একটি এমন ব্যবস্থা, যা ইসলামের বিরোধী; কারণ এতে মানুষকে এমন আইন প্রণয়নের সুযোগ দেওয়া হয়, যা আল্লাহ তা'আলা অনুমোদন করেননি।
[ফতোয়া ও বক্তৃতা সংকলন]
.
শাইখ রাবি’ ইবনে হাদী আল-মাদখালি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:
“গণতন্ত্র একটি ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা, যা ইসলামের মৌলিক আকিদা ও নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক।” [বক্তৃতা ও প্রশ্নোত্তর সংকলন]
.
শাইখ সালেহ বিন ফাউজান আল-ফাউজান (হাফিযাহুল্লাহ):
“গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে মানুষকে নিজেরাই তাদের ইচ্ছানুযায়ী আইন তৈরি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়, যা আল্লাহর বিধানের বিপরীত। এটি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করার নামান্তর। ইসলামে আইনের একমাত্র উৎস হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ, মানুষের রায় নয়।”
.
উৎস: তার “আল-আজওয়িবা আল-মুফিদা 'আন আসইলাত আল-মানাহিজ আল-জাদিদা”
.
শাইখ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ):
“গণতন্ত্র ইসলামের পরিপন্থী। কেননা এটি আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষকে আইনদাতা বানায়। শরীয়াহ যা হারাম করেছে, গণতন্ত্র তা বৈধ করতে পারে; আর শরীয়াহ যা বৈধ করেছে, গণতন্ত্র তা নিষিদ্ধ করতে পারে। এর মাধ্যমে আল্লাহর দেওয়া সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়।”
.
উৎস: ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব, অডিও বক্তৃতা।
.
শাইখ আব্দুল্লাহ আল-গুদাইয়ান (রহিমাহুল্লাহ):
“যে ব্যক্তি গণতন্ত্রের প্রতি ডাকে এবং বিশ্বাস করে যে মানুষের তৈরি আইন আল্লাহর আইনের সমান বা উত্তম, সে স্পষ্ট কুফরিতে লিপ্ত। কারণ সে আল্লাহর আইনকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষকেই বিধানদাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।”
.
উৎস: “শরয়ী হুকুম জানার প্রয়োজনীয়তা”
.
শাইখ আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আন-নাজমি (রহিমাহুল্লাহ):
.
“গণতন্ত্র হলো জাহিলিয়্যাহর আধুনিক রূপ। এটি মানুষকে ‘প্রভু’ বানায় এবং আল্লাহকে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্র থেকে অপসারিত করে। মুসলিমের কর্তব্য হলো শাসন ও আইনের ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর হুকুম মেনে চলা, মানব রচিত ব্যবস্থা নয়।”
.
উৎস: “আল-ফাওয়ায়িদ আল-সানি'য়াহ ফিল মাবাহিছ আল-ফিকহিয়্যাহ”
.
শাইখ মুহাম্মদ বিন হাদী আল-মাদখালি (হাফিযাহুল্লাহ):
.
“গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা, যেখানে ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের বাইরে রাখা হয়। ইসলামে এর কোনো স্থান নেই। মুসলিম জাতি শূরা (পরামর্শ) এর নীতিতে চলে, যা আল্লাহর বিধানের মৌলিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ, নিরংকুশ জনমতের অধিকার নয়।” উৎস: “তাবয়ীনু মাহানিল আছরিয়্যাহ”
.
শাইখ যায়েদ আল-মাদখালি (রহিমাহুল্লাহ):
.
“গণতন্ত্র হলো কুফরের সিস্টেম, কারণ এটি আল্লাহর আইনের পরিবর্তে মানুষের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এটি মুসলিম দেশগুলোতে যখন প্রবেশ করে, তখন তা শরীয়াহকে দুর্বল করে এবং পশ্চিমা মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেয়।”
.
উৎস: “তানবিহাতুলা হাদির ইলাল আহকাম আল-শর’ইয়্যাহ”
.
শাইখ মুহাম্মদ সুলাইমান আল-আলওয়ান (হাফিযাহুল্লাহ):
.
“গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ‘জনগণের কর্তৃত্ব’ ইসলামী আকিদার পরিপন্থী। ইসলামে কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। মানুষ তাঁর আইনের অনুগত হবে, নিজের জন্য নতুন শরীয়াহ রচনা করবে না।”
.
উৎস: “হুকমুল মুশারাকা ফিল ইনতিকহাবাত ওয়াল বারলামানিয়্যাহ”
.
শাইখ সালিহ ইবন গানিম আস-সাদলান (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:
.
“গণতন্ত্র হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সার্বভৌমত্ব আল্লাহর পরিবর্তে মানুষের কাছে অর্পিত হয়। এটি আল্লাহর আইনকে প্রত্যাখ্যান করার নামান্তর। যে ব্যক্তি আল্লাহর শরীয়াহকে অমান্য করে মানুষের তৈরি আইন দ্বারা বিচার চায়, সে তাগুতের অনুসারী এবং কুফরিতে লিপ্ত।”
.
— [كتاب: التحذير من الديمقراطية، ص ١٥]
শাইখ ওবাইদ আল-জাবিরী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:
.
“আজকাল কিছু নামধারী দাঈ গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের 'সাদৃশ্য' খোঁজে, কিন্তু এটি একটি ভয়ানক প্রবঞ্চনা। গণতন্ত্রের ভিত্তিই হলো 'জনগণের সার্বভৌমত্ব' (Popular Sovereignty), যা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। এটি স্পষ্ট কুফর।”
.
— [تحقيق المقال في حكم الديمقراطية، ص ٤١]
.
শাইখ আব্দুল আযীয আর-রাজিহী (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:
.
“গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ করা, এর নির্বাচনে ভোট দেওয়া— এসব কর্ম সরাসরি কুফরি ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল।”
Comments
Post a Comment